অশোক মিত্র ৷৷ নয়া জামানা ৷৷ ধূপগুড়ি: লোকসভা নির্বাচনের ঠিক মুখে জাতির জনক মহাত্মা গান্ধী-কে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক ঝড় তুললেন ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থী নরেশ রায়। বুথ স্তরের এক কর্মীসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি গান্ধীজিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলে কটাক্ষ করেন বলে অভিযোগ। নিজের দলের কর্মীদের মোবাইল ক্যামেরায় ধরা পড়া সেই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়।
বিতর্কিত মন্তব্যের রেশ দ্রুতই পৌঁছে যায় রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস-এর শীর্ষ মহলে। ধূপগুড়ির চৌপথিতে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল কর্মীরা। বিজেপি প্রার্থীর অবিলম্বে গ্রেপ্তারির দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে এলাকা। বিক্ষোভকারীদের দাবি, স্বাধীন ভারতের স্থপতিকে ‘দেশদ্রোহী’ বলার মতো মন্তব্য কেবল ইতিহাস বিকৃতি নয়, বরং জাতির আত্মসম্মানকে আঘাত।
এই ইস্যুকে কেন্দ্র করে বৃহস্পতিবার ময়নাগুড়িতে নির্বাচনী জনসভা থেকে তীব্র আক্রমণ শানান তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ধূপগুড়ির বিজেপি প্রার্থীর মন্তব্যকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যা দিয়ে অভিষেক বলেন, যাঁর আত্মবলিদানে দেশ স্বাধীন হলো, যিনি অহিংসার পথে গোটা বিশ্বকে পথ দেখালেন, তাঁকেই বিজেপির প্রার্থী দেশের শত্রু বলছেন। এমন অপমান বাংলা কখনও মেনে নেবে না। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, গান্ধীজির পাশাপাশি ক্ষুদিরাম বসুকেও বিদ্রুপ করা হয়েছে, যা বিজেপির মানসিকতার নগ্ন প্রকাশ।
এরপরই সভামঞ্চ থেকে বড় রাজনৈতিক ঘোষণা করেন অভিষেক। তিনি জানান, ধূপগুড়ির ডাকবাংলোর মুক্ত মঞ্চের সামনে মহাত্মা গান্ধীর একটি বিশাল মূর্তি স্থাপন করা হবে। আগামী ২ অক্টোবর, গান্ধীজির জন্মদিনে তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সেই মূর্তির উন্মোচন করবেন। শুধু তাই নয়, বিজেপি কর্মীদেরও সেখানে এসে গান্ধীজিকে সেলাম জানানোর প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন তৃণমূল নেতা।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনের মুখে বিজেপি প্রার্থীর এই ‘বেফাঁস’ মন্তব্য তৃণমূলের হাতে এক শক্তিশালী আবেগী অস্ত্র তুলে দিয়েছে। গান্ধীজিকে ঘিরে তৈরি হওয়া এই বিতর্ক ভোটের ময়দানে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে এটুকু স্পষ্ট—এই ইস্যুতে এক ইঞ্চি জমি ছাড়তে নারাজ ঘাসফুল শিবির, আর ধূপগুড়ির রাজনীতিতে উত্তাপ এখন চরমে।