[pj-news-ticker]

আলোর দিশারি, মালদা পাবলিক স্কুল

মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:গ্রামের মেঠো পথ পেরিয়ে যেখানে নতুন ভোরের সূর্য ওঠে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে এক সুন্দর ভবিষ্যতের গল্প। উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র মালদার গোলাপগঞ্জের বুকে তেমনই এক আশার আলো জ্বেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘মালদা পাবলিক স্কুল’।২০২২ সালে শিক্ষানুরাগী সারিফুল ইসলামের হাত ধরে এই....

আলোর দিশারি, মালদা পাবলিক স্কুল

মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:গ্রামের মেঠো পথ পেরিয়ে যেখানে নতুন ভোরের সূর্য ওঠে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে এক সুন্দর....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:গ্রামের মেঠো পথ পেরিয়ে যেখানে নতুন ভোরের সূর্য ওঠে, সেখানেই তৈরি হচ্ছে এক সুন্দর ভবিষ্যতের গল্প। উত্তরবঙ্গের প্রাণকেন্দ্র মালদার গোলাপগঞ্জের বুকে তেমনই এক আশার আলো জ্বেলে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘মালদা পাবলিক স্কুল’।২০২২ সালে শিক্ষানুরাগী সারিফুল ইসলামের হাত ধরে এই প্রতিষ্ঠানের সূচনা হয়েছিল মাত্র ১১০ জন খুদে পড়ুয়াকে সঙ্গে নিয়ে।পথচলা শুরুর সেই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো আজ রূপ নিয়েছে এক বিশালাকার স্বপ্নবৃক্ষে। প্রাক-প্রাথমিক বা প্লে গ্রুপ থেকে শুরু করে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার এক চমৎকার পরিবেশ গড়ে উঠেছে এখানে।শিক্ষা প্রসারের এই জয়যাত্রা এখানেই থেমে নেই, ২০২৭ সালের নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকেই ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠদান চালু করার এক দুর্দান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় পর্ষদ সিবিএসই (CBSE)-র অনুমোদিত পাঠ্যক্রম অনুসরণে পরিচালিত এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ১৫০ জনেরও বেশি ছাত্রছাত্রী এক আনন্দঘন পরিবেশে বিদ্যালাভ করছে।শিক্ষার এই মহাযজ্ঞ সামলাতে নিবেদিতপ্রাণ হয়ে কাজ করছেন ১০ জন দক্ষ শিক্ষক-শিক্ষিকা পাশাপাশি রয়েছে ১০ জন অশিক্ষক কর্মী ও সহায়ক সদস্য, যাঁদের আন্তরিক প্রচেষ্টায় প্রতিটা শিশু খুঁজে পায় নিজ নিজ সুপ্ত প্রতিভা বিকাশ করার সেরা সুযোগ।
গোলাপগঞ্জ ও তার আশেপাশের অঞ্চলের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের ভাবনাচিন্তা একেবারেই অনন্য ও আধুনিক। গ্রামীণ পরিবেশের মধ্যে ‘সেমি-রেসিডেন্সিয়াল’ বা আংশিক আবাসিক শিক্ষার কনসেপ্টটি এখানে সম্পূর্ণ নতুন এক দিগন্ত খুলে দিয়েছে। সম্পূর্ণ আবাসিক এবং সেমি-রেসিডেন্সিয়াল দুই ধরনের সুবিধাই এখানে উপলব্ধ। প্রতিদিনের ব্যস্ততার মাঝে অভিভাবকরা যখন সন্তানদের পড়াশোনা ও সঠিক যত্ন নিয়ে চিন্তিত থাকেন তখন এই স্কুলটি হয়ে ওঠে পরম ভরসাস্থল।শুধু পুথিগত বিদ্যা নয়, শিক্ষার্থীদের সার্বিক স্বাস্থ্যের দিকে লক্ষ্য রেখে প্রতিদিন দুপুরে পরিবেশন করা হয় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে পুষ্টিকর ও উচ্চমানের খাবার।সুষম আহার আর উপযুক্ত যত্নের মাধ্যমে প্রতিটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধি সুনিশ্চিত করাই এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার।
লেখাপড়ার গণ্ডি ছাপিয়ে কচি-কাঁচা মনগুলোকে নানা রঙের সুতোয় বুনে দেওয়ার চমৎকার আয়োজন রয়েছে এখানে। সাধারণত শহরের বড় বড় স্কুলে অতিরিক্ত ফি দিয়ে যেসব এক্সট্রা-কারিকুলার অ্যাক্টিভিটি শিখতে হয়, সেগুলো এখানে দেওয়া হয় একদম নিখরচায়। নৃত্য চর্চার তালে তালে নান্দনিকতার ছোঁয়া, আত্মরক্ষার জন্য তাইকোণ্ডো প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে গণিতের বুদ্ধি ধারালো করতে অ্যাবাকাসের মতো কোর্সসমূহ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে শেখানো হয়। প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার সারিফুল ইসলাম অত্যন্ত গর্বের সঙ্গে ও বিনয়ের সঙ্গে জানান যে, সাধারণ ও মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানরাও যাতে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেই লক্ষেই অতি সামান্য ও সাশ্রয়ী খরচে আধুনিক শিক্ষার দরজা উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। প্রতিটি শিশুর মাঝে আত্মবিশ্বাস জাগিয়ে তোলাই এই স্কুলের মূল দর্শন।
এই নিরলস চেষ্টার ফল মিলছে হাতে-নাতে। সাফল্যের খতিয়ান ইতিমধ্যেই উজ্জ্বল হতে শুরু করেছে। ২০২৪ সালেই এই স্কুলের পাঠ শেষ করে দুই শিক্ষার্থী জায়গা করে নিয়েছে ঐতিহ্যবাহী রামকৃষ্ণ মিশনে, আর তিনজন সম্ভাবনাময় শিক্ষার্থী সুযোগ পেয়েছে মর্যাদাপূর্ণ আল-আমিন মিশনে। অল্প সময়ের মধ্যে এমন সাফল্য প্রমাণ করে দেয় যে সঠিক দিকনির্দেশনা ও ভালোবাসা পেলে গ্রামীণ শিশুরাও সাফল্যের শিখরে পৌঁছাতে পারে।মালদা পাবলিক স্কুল কেবল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, এটি একটি স্বপ্নের কারখানা যেখানে প্রতিটি শিশুর ভবিষ্যৎ গড়া হচ্ছে পরম মমতায়।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর