মানস দাস,নয়া জামানা,মালদা:শিক্ষার আলোয় বদলাক ভবিষ্যৎ, গ্রামবাংলার বুকেই গড়ে উঠুক বিশ্বজয়ের স্বপ্ন। এই প্রত্যয়কে সামনে রেখেই শাহাবাজপুরের শিক্ষার মানচিত্রে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে এগিয়ে এসেছে কাইজেন ক্যারিয়ার গাইড স্কুল।আধুনিক শিক্ষার পরিকাঠামো, ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ, পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তবজীবনের জন্য নিজেকে তৈরি করার ভাবনা এবং সাধারণ পরিবারের সাধ্যের মধ্যে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্য সব মিলিয়ে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা।২০২৫ সালে যাত্রা শুরু করা এই স্কুলের স্বপ্ন শুধু পড়ুয়াদের পরীক্ষায় ভালো ফল করানো নয়,বরং তাদের আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ, দায়িত্বশীল ও ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা।আর সেই স্বপ্নের অন্যতম কারিগর মোজমপুরের বাসিন্দা শিক্ষানুরাগী মোকাদ্দার শেখ।
শিক্ষা মানুষের জীবনের এমন এক সম্পদ যা শুধু ব্যক্তির ভবিষ্যৎ গড়ে তোলে না,বদলে দিতে পারে একটি পরিবার, একটি সমাজ,এমনকী একটি গোটা এলাকার গতিপথও। কিন্তু মানসম্মত শিক্ষার সুযোগ কি সকলের কাছে সমানভাবে পৌঁছয়? বাস্তব অভিজ্ঞতা বলছে, এখনও বহু পরিবারের কাছে আধুনিক ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ নয়। নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিপুল খরচ,পড়াশোনার আনুষঙ্গিক ব্যয় এবং পরবর্তী সময়ে গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন সব মিলিয়ে সন্তানকে পছন্দের স্কুলে পড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আর্থিক চাপের মুখে পড়তে হয় অভিভাবকদের। অনেক সময় সন্তানের মেধা বা আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য হয়ে দাঁড়ায় বড় বাধা।কালিয়াচক ১নং ব্লকের শাহাবাজপুরের মতো সম্ভাবনাময় এলাকায় এই বাস্তবতা উপলব্ধি করেই একটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেছিলেন মোকাদ্দার শেখ।
স্থানীয় অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীদের সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে তিনি উপলব্ধি করেন,এলাকায় এমন একটি স্কুলের প্রয়োজন রয়েছে, যেখানে আধুনিক পাঠ্যক্রমের সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পাবে উপযুক্ত পরিচর্যা,শৃঙ্খলা এবং নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ।সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় কাইজেন ক্যারিয়ার গাইড স্কুলের পথচলা।প্রতিষ্ঠাতাদের লক্ষ্য, শহরকেন্দ্রিক শিক্ষার সুযোগকে যতটা সম্ভব এলাকার শিশুদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা যাতে ভালো শিক্ষার জন্য পরিবারকে অযথা দূরে ছুটতে না হয়। অবশ্য কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাফল্য শুধু তার নাম, ভবন কিংবা পাঠ্যক্রম দিয়ে বিচার করা যায় না।তার প্রকৃত পরিচয় তৈরি হয় শ্রেণিকক্ষের ভিতরে, শিক্ষক শিক্ষিকার যত্নে, পড়ুয়াদের শেখার আগ্রহে এবং অভিভাবকদের আস্থায়। কাইজেনও সেই আস্থার ভিত শক্ত করার লক্ষ্য নিয়েই এগোতে চাইছে।
এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল,এখানে সিবিএসই পাঠ্যক্রমের ইংরেজি মাধ্যমে শিক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।প্লে-গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন দিয়ে যাত্রা শুরু হয়েছে। প্রথম বছরেই প্রায় ১০০ জন পড়ুয়াকে নিয়ে স্কুলের শিক্ষাযাত্রা শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানের কাছে যেমন উৎসাহের,তেমনই আগামী দিনের জন্য দায়িত্বেরও। কারণ,ছোটদের শিক্ষার ভিত্তি তৈরি করার সময়টাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।এই বয়সে শিশুর মধ্যে ভাষা শেখার আগ্রহ, কৌতূহল, যুক্তিবোধ, কল্পনাশক্তি, সামাজিক আচরণ এবং নিজের কথা প্রকাশ করার ক্ষমতা গড়ে ওঠে। সেই সময় যদি তাকে ভয়মুক্ত পরিবেশে প্রশ্ন করতে, বুঝে শিখতে এবং নিজের মতো করে ভাবতে উৎসাহিত করা যায় তাহলে ভবিষ্যতের শিক্ষাজীবনের ভিত অনেকটাই মজবুত হতে পারে।
কাইজেনের ভাবনায় শিক্ষার অর্থ শুধুমাত্র পাঠ্যবই শেষ করা কিংবা পরীক্ষার খাতায় বেশি নম্বর তুলে আনা নয়। নম্বর অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু নম্বরই কি একজন পড়ুয়ার প্রকৃত যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি? একটি শিশু কতটা বুঝতে পারছে, নতুন কিছু শেখার প্রতি তার আগ্রহ কতটা, নিজের সমস্যার সমাধান করতে পারছে কি না অন্যের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারছে কি না এই বিষয়গুলিও সমান গুরুত্ব পাওয়ার দাবি রাখে।বর্তমান সময়ে কর্মজগৎ ও উচ্চশিক্ষার পরিসর দ্রুত বদলাচ্ছে। সেখানে শুধু মুখস্থবিদ্যা নয়, প্রয়োজন ভাষাগত দক্ষতা,বিশ্লেষণী ক্ষমতা,প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিতি, দলগতভাবে কাজ করার মানসিকতা এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্য। শৈশব থেকেই এই গুণগুলির বিকাশ ঘটানোর সুযোগ তৈরি করাই আধুনিক শিক্ষার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
ইংরেজি ভাষায় দক্ষতার প্রশ্নটিও এখানে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক শিক্ষার্থী বিষয়ভিত্তিক পড়াশোনায় ভালো হলেও ইংরেজিতে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করতে গিয়ে সংকোচ বোধ করে।ফলে উচ্চশিক্ষা, চাকরির সাক্ষাৎকার কিংবা বৃহত্তর কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাদের সমস্যায় পড়তে হয়। এই পরিস্থিতি বদলাতে প্রয়োজন ছোটবেলা থেকেই ভাষা শেখার উপযুক্ত পরিবেশ, নিয়মিত অনুশীলন এবং ভুল করার ভয় কাটিয়ে ওঠার সুযোগ। ইংরেজি শেখা মানে নিজের মাতৃভাষাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া নয় বরং বাংলা-সহ অন্যান্য ভাষার প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রেখেই আরও একটি ভাষায় দক্ষ হয়ে ওঠা।একটি শিশু যত বেশি ভাষায় নিজের ভাবনা প্রকাশ করতে শিখবে, তার সামনে যোগাযোগ ও জ্ঞান অর্জনের সুযোগও তত প্রসারিত হতে পারে। কাইজেনের মতো প্রতিষ্ঠানের কাছে তাই ভাষা শিক্ষার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস তৈরির বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক ইত্তেফাক আলম,পরিচালক মোকাদ্দার শেখ। তাঁদের পরিচালনায় স্কুলের পঠনপাঠন এগিয়ে নিয়ে যেতে রয়েছেন ১৭ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা ও কর্মী। একটি শিশুর শিক্ষা শুধু শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে শিক্ষকের ব্যবহার, সহপাঠীদের সঙ্গে সম্পর্ক, নিয়মিত অনুশীলন, পরিচ্ছন্নতা, সময়ানুবর্তিতা এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট অভিজ্ঞতা।বিশেষত প্রাথমিক স্তরে শিক্ষক-শিক্ষিকার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।শিশুর কোনও প্রশ্নকে গুরুত্ব দেওয়া, তার দুর্বলতা চিহ্নিত করে সহায়তা করা এবং তার আগ্রহের জায়গাগুলিকে উৎসাহিত করার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় শেখার আনন্দ।সেই আনন্দই একসময় পড়াশোনাকে দায়িত্বের পাশাপাশি ভালোবাসার বিষয় করে তুলতে পারে।
ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে পড়াশোনা করানোর ক্ষেত্রে অনেক পরিবারের আর একটি বড় চিন্তা হল বাড়িতে পড়ার সহায়তা।অভিভাবকরা নিজেরা ইংরেজি মাধ্যমে অভ্যস্ত না হলে কিংবা কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানকে নিয়মিত সময় দিতে না পারলে অতিরিক্ত গৃহশিক্ষকের প্রয়োজন দেখা দেয়। এতে যেমন খরচ বাড়ে, তেমনই শিশুর দৈনন্দিন সময়ের উপরেও চাপ পড়ে। এই সমস্যার কথা মাথায় রেখে কাইজেন কর্তৃপক্ষ স্কুলের সঙ্গে কোচিং ক্লাস এবং ডে-বোর্ডিংয়ের ব্যবস্থা রেখেছে বলে জানিয়েছে। এর ফলে স্কুলের নির্ধারিত ব্যবস্থার মধ্যে পড়াশোনা ও অনুশীলনের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। তবে এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা নির্ভর করবে প্রতিটি পড়ুয়ার প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা, উপযুক্ত সময়সূচি এবং শিক্ষকদের নিয়মিত তদারকির উপর। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রেখে সেই ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তোলাই হতে পারে প্রতিষ্ঠানের অন্যতম লক্ষ্য।
দূরবর্তী এলাকার পড়ুয়াদের যাতায়াতের সুবিধার কথাও বিবেচনা করা হয়েছে।স্কুল কর্তৃপক্ষের দাবি,শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য পরিবহণের ব্যবস্থা রয়েছে।কোনও শিশুর শিক্ষাজীবনে নিয়মিত স্কুলে পৌঁছনোর সুযোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে নিরাপদ যাতায়াত, দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান এবং অভিভাবকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় যোগাযোগ নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে আবাসিক শিক্ষার ব্যবস্থার দিকেও এগোতে চাইছে প্রতিষ্ঠানটি। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে আধুনিক ও নিরাপদ আবাসিক সুবিধা চালু করার উদ্যোগ রয়েছে।সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দূরের পড়ুয়াদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।তবে আবাসিক ব্যবস্থার ক্ষেত্রে নিরাপত্তা,স্বাস্থ্যকর পরিবেশ, পুষ্টিকর খাবার, পরিচর্যা এবং শিশুদের মানসিক সুস্থতার মতো বিষয়গুলিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
কাইজেনের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে আরও বড় পরিসরে স্কুলের পরিকাঠামো গড়ে তোলা। বর্তমানে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পঠনপাঠন চালু থাকলেও আগামী দিনে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করার ভাবনা রয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।অভিভাবকদের আস্থা, স্থানীয় মানুষের সহযোগিতা এবং প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক অগ্রগতির উপর নির্ভর করেই এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের পথ তৈরি হবে। একটি স্কুলের সম্প্রসারণ শুধু শ্রেণিকক্ষের সংখ্যা বাড়ানো নয় এর সঙ্গে প্রয়োজন প্রশিক্ষিত শিক্ষক, পর্যাপ্ত পরিকাঠামো, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞান ও কম্পিউটার শিক্ষার সুযোগ, খেলাধুলার পরিবেশ এবং শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশের উপযুক্ত ব্যবস্থা। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাকে বাস্তবের মাটিতে প্রতিষ্ঠা করতে হলে এই প্রতিটি ক্ষেত্রেই ধারাবাহিক উন্নয়ন জরুরি।
শাহাবাজপুরের মতো এলাকায় একটি নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উত্থান তাই নিছক একটি স্কুলের সূচনা নয়, বরং স্থানীয় শিক্ষার ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবার সুযোগ। শিক্ষা যদি কেবল সামর্থ্যবান পরিবারের সন্তানদের জন্য সীমাবদ্ধ না থেকে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে তাহলেই তার সামাজিক তাৎপর্য পূর্ণতা পায়। তবে আধুনিক পাঠ্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার গুণমান, স্বচ্ছতা, নিয়মিত মূল্যায়ন এবং প্রতিটি শিশুর প্রতি সমান মনোযোগ বজায় রাখাই হবে এই পথচলার আসল পরীক্ষা। অভিভাবকদের প্রত্যাশা ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিশ্রুতির মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতে পারলে কাইজেনের উদ্যোগ আরও সুদৃঢ় হতে পারে।
একটি শিশুর চোখে যখন প্রথম বড় হওয়ার স্বপ্ন জন্ম নেয়,তখন সেই স্বপ্নকে বাস্তবের পথ দেখানোর দায়িত্ব নেয় পরিবার, শিক্ষক এবং সমাজ। সেই দায়িত্বের জায়গা থেকেই কাইজেন ক্যারিয়ার গাইড স্কুলের যাত্রা। এখানে আগামী দিনের স্বপ্ন কতটা সাফল্যে রূপ নেবে তা নির্ধারিত হবে শিক্ষার মান,পড়ুয়াদের বিকাশ, অভিভাবকদের আস্থা এবং প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক উদ্যোগের মাধ্যমে। তবু একটি ইতিবাচক সূচনা যে নতুন আশার আলো দেখাতে পারে তা অস্বীকার করার উপায় নেই।শাহাবাজপুরের মাটিতে সেই আশার বীজ বুনে কাইজেন এগিয়ে যেতে চাইছে এমন এক ভবিষ্যতের দিকে, যেখানে গ্রামের শিশুরাও আত্মবিশ্বাস নিয়ে বৃহত্তর পৃথিবীর সামনে দাঁড়াতে পারবে।কারণ,শিক্ষার প্রকৃত জয় তখনই, যখন কোনও শিশুর স্বপ্ন তার পরিবারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার কাছে হার মানে না,বরং জ্ঞান, অধ্যবসায় ও সুযোগের হাত ধরে খুঁজে পায় নিজের দিগন্ত।