নয়া জামানা:দেশের রেল পরিকাঠামোকে নতুন রূপ দিতে এবং ট্রেনের গতি ও সময়ানুবর্তিতা বাড়াতে একগুচ্ছ বড় প্রকল্পের অনুমোদন দিল কেন্দ্র। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট কমিটি অন ইকোনমিক অ্যাফেয়ার্স-র বৈঠকে ভারতীয় রেলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রকল্পে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।তিনটি সুবিশাল রেল প্রকল্পের বিস্তৃতি ঘটবে দেশের পাঁচটি রাজ্যের ১৪টি জেলা জুড়ে- পশ্চিমবঙ্গ, ঝাড়খণ্ড, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তিসগড়। এই মেগা প্রকল্পের জন্য সার্বিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১০,৭৮৩ কোটি টাকা।এই সিদ্ধান্তের ফলে রেলের লাইন ক্যাপাসিটি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে, যার জেরে ট্রেন চলাচলের গতি বাড়ার পাশাপাশি রেলের কর্মদক্ষতা ও যাত্রী পরিষেবার নির্ভরযোগ্যতাও জোরদার হবে। ব্যস্ততম রুটগুলোতে ভিড় ও জট কমিয়ে নির্বিঘ্নে দ্রুত ট্রেন চালানোই এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নিউ ইন্ডিয়া ও আত্মনির্ভর ভারত ভাবনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্তকে দেখা হচ্ছে, যা অঞ্চলে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।অনুমোদিত তিনটি প্রকল্প হল,খড়গপুর-ঝারসুগুড়া (বাগদেহি) রুটে চতুর্থ রেললাইন, কাটনি-পেন্ড্রা রোড রুটে চতুর্থ রেললাইন এবং বিলাসপুর (উসলাপুর)-পেন্ড্রা রোড রুটে তৃতীয় রেললাইন।সম্পূর্ণ পরিকল্পনাটি পিএম গতি শক্তি জাতীয় মাস্টার প্ল্যান-এর অধীনে সমন্বিত ভাবনা ও অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রূপায়িত হচ্ছে, যার লক্ষ্য মাল্টি-মোডাল কানেক্টিভিটির মাধ্যমে দ্রুত পণ্য ও যাত্রী পরিবহণ নিশ্চিত করা। প্রকল্প শেষ হলে রেল নেটওয়ার্ক প্রায় ৬৫৬ কিলোমিটার বৃদ্ধি পাবে এবং এর সরাসরি সুফল পাবে প্রায় ৪,৭৯০টি গ্রামের প্রায় ৫৬ লক্ষ মানুষ।এই সম্প্রসারণ তারাতারিণী মন্দির, শ্রীক্ষেত্র জগন্নাথ মন্দির, বান্ধবগড় ব্যাঘ্র প্রকল্প, বিরাটেশ্বর মন্দির, অমরকণ্টক মন্দির, জ্বালেশ্বর ধাম, আচানকমায়ার ব্যাঘ্র প্রকল্পসহ একাধিক ঐতিহাসিক পর্যটন ও পুণ্যস্থানে পৌঁছনো সহজ করে তুলবে।
আরও পড়ুন:
মন্দিরে রাজনীতি নয়; গঙ্গাজল ছিটিয়ে কঙ্কালীতলায় বিশেষ শুদ্ধিকরণ