নয়া জামানা : মির্জা গালিব স্ট্রিটের বহুতল হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে, রাত আনুমানিক দুটো নাগাদ, নিউ মার্কেট এলাকার ওই পাঁচতলা ভবনে আগুন লাগে। ভবনটির প্রতিটি তলায় পৃথক পৃথক হোটেল বা গেস্টহাউস চলত। মৃতদের মধ্যে একটি চার বছরের শিশুও রয়েছে। ছয়জন আহত হয়েছেন, যাঁদের কলকাতার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দমকল ও সিভিল ডিফেন্স বাহিনীর তৎপরতায় প্রায় ৬০ থেকে ৮০ জনকে ভবন থেকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
দমকল দপ্তরের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের অধিকাংশই বাংলাদেশি নাগরিক, যাঁরা চিকিৎসার উদ্দেশ্যে কলকাতায় এসেছিলেন। প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ শ্বাসরোধ, কারণ অধিকাংশ দেহে পোড়ার চিহ্ন মেলেনি। ভবনের সংকীর্ণ প্যাসেজ ও বিকল্প জরুরি নির্গমন পথের অভাবে উদ্ধারকাজে যথেষ্ট সমস্যা হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকরা।
ঘটনার পর গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেন, কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণহানির খবরে তিনি অত্যন্ত মর্মাহত। যাঁরা প্রিয়জনকে হারিয়েছেন তাঁদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন তিনি এবং জানান, স্থানীয় প্রশাসন দুর্গতদের পাশে দাঁড়িয়ে সহায়তা করছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও এই দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। উদ্ধার ও ত্রাণকাজের পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, এই ঘটনা পূর্ববর্তী সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের অবহেলার প্রতিফলন। তাঁর অভিযোগ, বাধ্যতামূলক অগ্নিনিরাপত্তা বিধি উপেক্ষা করেই দীর্ঘদিন ধরে নানা বাড়িতে অনুমোদনহীন হোটেল ও ব্যবসা চালানোর সুযোগ দেওয়া হয়েছিল, যার ফলে শহরের পরিকাঠামো যথাযথ নজরদারি ছাড়াই বেড়ে উঠেছে। আহতদের উন্নত চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যে পাঁচ সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকৃত সত্য সামনে আনা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ঘটনার সব দিক খতিয়ে দেখে দায় নির্ধারণ করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। প্রাণ হারানোদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তাঁদের জন্য প্রার্থনাও করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
রাজ্যের দমকল প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন, মির্জা গালিব স্ট্রিট এলাকায় দমকলের একটি বড় স্টেশন থাকা সত্ত্বেও ভবনটিতে বিকল্প জরুরি নির্গমন পথ ছিল না এবং প্যাসেজগুলি এতটাই সংকীর্ণ ছিল যে দু’জন মানুষ পাশাপাশি দাঁড়াতে পারতেন না। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে রাজ্য সরকার শহরের সব হোটেল, লজ ও গেস্টহাউসের অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত সামগ্রিক অডিট চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। উল্লেখ্য, এর মাত্র দু’দিন আগে বীরভূমের তারাপীঠেও একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ৮-৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল, যার জেরে রাজ্যজুড়ে হোটেল অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।