ব্রেকিং
[pj-news-ticker]
  • Home /
  • পশ্চিমবঙ্গ /
  • ডিগ্রিতে ভেদাভেদ? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের স্নাতকোত্তরে এবার বড় বদল!

ডিগ্রিতে ভেদাভেদ? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের স্নাতকোত্তরে এবার বড় বদল!

টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার বা কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের স্নাতকোত্তর ডিগ্রির কদর এবার আর কলেজগুলোর সাথে এক পাল্লায় মাপা হবে না! বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবার কলেজের ডিগ্রিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জুড়ে দিয়ে মাস্টার্সের সার্টিফিকেটে এক স্পষ্ট ফারাক আনতে চলেছে।....

ডিগ্রিতে ভেদাভেদ? কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজের স্নাতকোত্তরে এবার বড় বদল!

টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার বা কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের স্নাতকোত্তর ডিগ্রির কদর এবার আর....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


টিনা প্রামাণিক, নয়া জামানা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার বা কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের স্নাতকোত্তর ডিগ্রির কদর এবার আর কলেজগুলোর সাথে এক পাল্লায় মাপা হবে না! বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবার কলেজের ডিগ্রিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম জুড়ে দিয়ে মাস্টার্সের সার্টিফিকেটে এক স্পষ্ট ফারাক আনতে চলেছে। বুধবার এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের বৈঠক হয়।

সেখানে আপাতত ঠিক হয়েছে, এতদিন পর্যন্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্সের পড়ুয়ারা সমান ডিগ্রি পেতেন। সেই ডিগ্রিতে কেবল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নামই থাকত। ফলে আশুতোষ কলেজ বা সুরেন্দ্রনাথ কলেজ থেকে পাশ করা পড়ুয়া এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজাবাজার ক্যাম্পাস বা কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাসের পড়ুয়ারা একই ডিগ্রি পেতেন। কিন্তু এ বার বিশ্ববিদ্যালয় চাইছে, কলেজগুলির ডিগ্রিতে সংশ্লিষ্ট কলেজের নাম উল্লেখ করা থাক। সেই ডিগ্রিও কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়েরই দেবে, কিন্তু যাঁরা যে কলেজ থেকে পড়ে এমএ, এমএসসি বা এমকম পাশ করছেন, সেই কলেজের নাম ডিগ্রিতে থাকবে। আর বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিতে থাকবে শুধুই বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলির ডিগ্রির মধ্যে একটা ফারাক তৈরি হবে।

দীর্ঘদিন ধরেই মাস্টার্স কোর্সগুলি নিয়ে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টিদের মধ্যে বিতর্ক চলছিল। অতীতে অনেক সময়ই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অনেকে অভিযোগ করেছেন, কলেজগুলিতে ঠিক মতো পড়ানো হয় না। সেখানে পড়ুয়াদের অনেকে টুকে লেখেন। আবার কলেজগুলির শিক্ষকদের অনেকে অভিযোগ করতেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা যেহেতু সব পরীক্ষার খাতা দেখেন, তাই তাঁরা ইচ্ছে করে কলেজের পড়ুয়াদের কম নম্বর দেন। এই দ্বৈরথ কাটানোর জন্যেই এ বার পদক্ষেপ করতে চান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। শান্তা দত্ত দে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য থাকাকালীন মাস্টার্সের পরীক্ষায় কয়েকটি রদবদল করেছিলেন। যিনি যে কলেজে পড়েন, সেখানেই আগে সিট পড়ত। সেই পদ্ধতিতে বদল এনে কলেজের পড়ুয়াদের বিশ্ববিদ্যালয়ে বা অন্য কলেজে নিয়ে গিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন শান্তা।

কিন্তু এ দিন যা আলোচনা হয়েছে তাতে প্রধানত তিনটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে বলে সূত্রের খবর।

* প্রথমত, কলেজগুলির মাস্টার্স কোর্স পরিচালনার জন্যে পৃথক বোর্ড অফ স্টাডিজ তৈরি করা হবে। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কলেজগুলির শিক্ষক-শিক্ষিকারাও থাকবেন। তাঁরাই প্রশ্ন করবেন।

* দ্বিতীয়ত, পরীক্ষা যে যাঁর কলেজে বসে দিতে পারবেন। কিন্তু খাতা দেখার ক্ষেত্রে এক কলেজের খাতা অন্য কলেজে যাবে।

* তৃতীয়ত, ডিগ্রি আলাদা করা হবে। যদিও বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষ আধিকারিক বলেন, ‘আপাতত প্রস্তাবগুলি গৃহীত হলেও তা চূড়ান্ত হয়নি। আরও আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ লেডি ব্রেবোর্ন কলেজের অধ্যক্ষ শিউলি সরকার নতুন প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘কষ্ট করে কলেজগুলির শিক্ষকরা পড়ান। ডিগ্রিতে যেহেতু কলেজের নাম উল্লেখ থাকবে তাতে আমার মনে হয় কলেজেরই সুনাম হবে।’ পশ্চিমবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদের সভাপতি পঙ্কজ রায়ও নতুন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁর সংযোজন, ‘ডিগ্রি আলাদা করলেই পড়াশোনার মান ভালো হবে না। বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজগুলিতে ভালো করে পড়াশোনা হচ্ছে কি না, সেটাও নজরে রাখতে হবে।’ যদিও পড়ুয়াদের একাংশের আশঙ্কা, এতকাল ডিগ্রিতে সমতা থাকলেও নতুন সিদ্ধান্তে ভেদাভেদ তৈরি হবে না তো?


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর