ব্রেকিং
[pj-news-ticker]
  • Home /
  • Uncategorized /
  • রামপুরহাটে দলীয় কার্যালয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ, উদ্ধার সুইসাইড নোট

রামপুরহাটে দলীয় কার্যালয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ, উদ্ধার সুইসাইড নোট

নয়া জামানা,রামপুরহাট : রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল রামপুরহাটে। বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। মৃতদেহের পাশ থেকে মিলেছে একটি সুইসাইড নোট, যা খতিয়ে দেখছে বীরভূম....

রামপুরহাটে দলীয় কার্যালয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ, উদ্ধার সুইসাইড নোট

নয়া জামানা,রামপুরহাট : রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা,রামপুরহাট : রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা তৃণমূলের প্রাক্তন বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের রহস্যমৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ল রামপুরহাটে। বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে উদ্ধার হয়েছে তাঁর ঝুলন্ত দেহ। মৃতদেহের পাশ থেকে মিলেছে একটি সুইসাইড নোট, যা খতিয়ে দেখছে বীরভূম জেলা পুলিশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারের দায়িত্বও সামলেছিলেন তিনি।

বীরভূমের রামপুরহাট পুরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাটতলাপাড়া এলাকায় থাকতেন প্রাক্তন মন্ত্রী। তাঁর বাড়ি লাগোয়া একটি দলীয় কার্যালয় রয়েছে। রবিবার সকালে সেই কার্যালয় থেকেই উদ্ধার হয় তাঁর ঝুলন্ত দেহ। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পৌঁছয় রামপুরহাট থানার পুলিশ, মোতায়েন করা হয় বিশাল পুলিশবাহিনী। খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই এলাকাবাসীর ভিড় জমে যায় ঘটনাস্থলে, যদিও প্রাক্তন বিধায়কের বাড়ির সামনে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না বলে জানা গিয়েছে।
দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পরই বিষয়টি স্পষ্ট হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে রামপুরহাট থানা।

রামপুরহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে পাঁচবারের বিধায়ক ছিলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর মন্ত্রী হিসেবে একাধিক দফতরের দায়িত্ব সামলেছেন তিনি — কখনও স্কুলশিক্ষা, কখনও কৃষি, আবার কখনও আয়ুষ দফতর। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার তাঁকে রাজ্য বিধানসভার ডেপুটি স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করেছিল।
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও রামপুরহাট কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের টিকিটে প্রার্থী হয়েছিলেন তিনি, তবে বিজেপি প্রার্থী ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন। জেলা রাজনীতিতে অনুব্রত মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ বলেই পরিচিত ছিলেন আশিসবাবু। তবে রাজ্যে পালাবদলের পর গত জুন মাসেই জেলা তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি এবং বীরভূম তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্যপদও ছেড়ে দেন।

প্রাক্তন বিধায়কের পরিবারের দাবি, তাঁর মৃত্যুর আগে থেকে কোনও অস্বাভাবিকতা কেউ লক্ষ্য করেননি। তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিলেন এবং স্বাধীনতা দিবসের দিনও পতাকা উত্তোলন করেছিলেন। হঠাৎ কী হয়ে গেল, তা বুঝে উঠতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।

পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া সুইসাইড নোটে দল এবং দুর্নীতি সংক্রান্ত প্রসঙ্গের উল্লেখ রয়েছে, যদিও মৃত্যুর জন্য নির্দিষ্ট করে কাউকে দায়ী করেননি তিনি। নোটে তিনি লিখেছেন, ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতি করেছেন এবং কোনওদিন দুর্নীতির সঙ্গে আপোস করেননি বা কারও থেকে এক টাকাও নেননি, এমনকি বিনা পারিশ্রমিকে ছাত্রছাত্রীদের পড়িয়েছেনও। তবে চোখের সামনে দলীয় অন্যায় ঘটতে দেখেও প্রতিবাদ করতে পারেননি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি।
নোটে তারাপীঠ রামপুরহাট ডেভেলপমেন্ট অথরিটি (টিআরডিএ)-তে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগের প্রসঙ্গও উল্লেখ রয়েছে। ওই অথরিটিতে সদস্য ছিলেন আশিসবাবু। নোটে তিনি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে লিখেছেন যে, টিআরডিএ-তে সাধারণ সভা ছাড়া তাঁর আর কোনও দায়িত্ব ছিল না — না তিনি টেন্ডার কমিটিতে ছিলেন, না তাঁর চেক পাওয়ার ছিল, না তিনি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এই বিষয়ে তাঁর সঙ্গে কখনও কেউ আলোচনাও করেননি বলে তিনি দাবি করেছেন।
এরপর তিনি লেখেন, যেভাবে তাঁকে অপমানিত হতে হয়েছে, তাতে মনে হয়েছে রাজনীতিতে আসাটাই তাঁর জীবনের ভুল সিদ্ধান্ত ছিল। পরিবারের কেউ যেন ভবিষ্যতে রাজনীতিতে না আসেন, সে বিষয়েও পরামর্শ দিয়ে গিয়েছেন তিনি। সুইসাইড নোটের এই বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে — অপমানেই কি আত্মঘাতী হয়েছেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়? গোটা বিষয়টি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ করেছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত অনুব্রত মণ্ডল। টিভি৯ বাংলাকে তিনি বলেছেন, আশিসবাবু ছিলেন একজন খুব ভালো ও সৎ মানুষ, কারও সঙ্গে তাঁর কোনও বিবাদ ছিল না, কোনও দুর্নীতিতেও তিনি জড়িত ছিলেন না বলে জানান অনুব্রত। কী কারণে এমন ঘটল, তা তিনি বুঝে উঠতে পারছেন না বলেও জানান।
রামপুরহাটের বিজেপি বিধায়ক ধ্রুব সাহা বলেন, রাজনীতিতে কোথায় কে অপমানিত হয়েছেন তা তাঁর জানা নেই। নির্বাচনে পরাজিত হওয়ার পরেও তিনি গিয়ে আশিসবাবুকে প্রণাম করে এসেছিলেন বলে জানান তিনি। তাঁর মতে, অপমানিত হলে তা দলের কাছ থেকেই হতে হয়েছে, পাশাপাশি পারিবারিক সমস্যার কথাও তদন্তে আসা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ধ্রুব সাহা।
তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এই ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করেছেন। তিনি বলেন, কেউ দোষী কি না তা প্রমাণিত হওয়ার আগেই কলঙ্ক, অপমান ও কুৎসার মাধ্যমে একটা নির্দিষ্ট বয়ান তৈরি করে কাউকে কালিমালিপ্ত করা হলে তা হয়তো মানসিকভাবে সহ্য করতে পারেননি আশিসবাবু। তিনি স্মরণ করেন, ২১ জুলাইয়ের সভার দিকে যাওয়ার পথে রাস্তায় দাঁড়িয়ে এক বিজেপি নেতা তাঁকে কটূক্তি করেছিলেন বলে অভিযোগ। দোষ প্রমাণিত হওয়ার আগেই এভাবে কাউকে কলুষিত করার প্রবণতাই এই ঘটনার নেপথ্যে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন কুণাল ঘোষ।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর