নয়া জামানা : গত ছয় দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যার মুখে পড়েছে অসম। রাজ্যের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জলমগ্ন, বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে আশ্রয়শিবিরে দিন কাটাচ্ছেন। এই সংকটের সময় দুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে এগিয়ে এসেছেন রণদীপ হুডা ও দেবলীনা ভট্টাচার্যের মতো একাধিক বলিউড তারকা। সেই তালিকায় এবার নাম লেখালেন মেগাস্টার সলমান খানও।
সলমানের চ্যারিটেবল ট্রাস্ট ‘বিয়িং হিউম্যান’ ইতিমধ্যেই দুর্গত এলাকায় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেছে। তবে এবার শুধু ত্রাণেই সীমাবদ্ধ না থেকে গৃহহীন পরিবারগুলোর মাথার উপর ছাদ তৈরি করে দিতে বড়সড় উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।
সূত্রের খবর, সমাজসেবী তথা অভিনেতা রণদীপ হুডাকে সরাসরি দুর্গত এলাকায় নেমে ত্রাণকাজ করতে দেখেন সলমান। এরপর এক বন্ধুর মাধ্যমে তিনি রণদীপের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুর্গতদের পুনর্বাসনের কাজ দ্রুত শুরু করার সিদ্ধান্ত নেন।
রণদীপ হুডা সলমানকে জানান, ‘গ্লোবাল শিখস’ নামের একটি সংস্থার প্রায় ৭০ জন সদস্য দুর্গত এলাকায় দিনরাত ত্রাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা অমরপ্রীত সিং জানান, তাঁরা বাঁশ ও টিন দিয়ে বন্যা-প্রতিরোধী আধা-পাকা ঘর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছেন, যাতে একেকটি ঘর তৈরিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৩৫ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা।
সব শুনে সলমান খান তৎক্ষণাৎ ওই এনজিওর সঙ্গে হাত মেলান এবং যৌথভাবে ৫০০টি ঘর তৈরির প্রতিশ্রুতি দেন। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা শিবসাগরের ‘নেপালি খুঁটি’ গ্রামে ইতিমধ্যে ২২০টি ঘরের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ৮ থেকে ১০টি করে নতুন ঘর তৈরি হচ্ছে।
এনজিও প্রধান অমরপ্রীত সিং জানান, সলমান খান তাঁদের সঙ্গে কথা বলে আশ্বাস দিয়েছেন, আপনারা চিন্তা করবেন না।
অন্যদিকে, টানা বেশ কয়েকদিন ধরে শিবসাগর রেল স্টেশনে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের রান্না করা খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন রণদীপ হুডা নিজে। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব কিছুর ঊর্ধ্বে মানবতা। এই বিপদের দিনে মানুষ হিসেবে অন্য মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। যার যেমন সামর্থ্য, সেভাবেই এগিয়ে আসা উচিত।