স্বরূপ সাহা, নয়া জামানা ,মালদা : এলপিজি গ্রাহকদের ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করার প্রক্রিয়া জোরকদমে চলছে মালদায়। জেলার চারটি গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর সংস্থার প্রায় দেড় লক্ষ গ্রাহকের মধ্যে যাঁদের এখনও ই-কেওয়াইসি বাকি রয়েছে, তাঁদের আগামী ১৬ আগস্টের মধ্যে তা সম্পূর্ণ করার আবেদন জানিয়েছেন ডিস্ট্রিবিউটররা। গ্রাহকদের সুবিধার জন্য কোথাও এজেন্সিতে ডেকে, আবার কোথাও বাড়ি বাড়ি গিয়েও ই-কেওয়াইসি করা হচ্ছে।
মালদার ইংরেজবাজারের এক গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর এজেন্সির মালিক সোমেশচন্দ্র দাস জানান, ই-কেওয়াইসি-র জন্য নতুন করে কোনও নথি জমা দিতে হচ্ছে না। শুধুমাত্র গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে চোখের রেটিনা বা হাতের আঙুলের ছাপ নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, “ই-কেওয়াইসি-র নিয়ম নতুন নয়, আগেও ছিল। তবে যাঁদের এখনও ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হয়নি, তাঁদের দ্রুত এই প্রক্রিয়া শেষ করার জন্য আমরা উদ্যোগ নিয়েছি। আমাদের কর্মীরা প্রয়োজনে গ্রাহকদের বাড়িতে গিয়েও ই-কেওয়াইসি করছেন, আবার অনেককে অফিসেও ডাকা হচ্ছে। এর মূল উদ্দেশ্য, প্রকৃত গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করা।”
তিনি আরও জানান, ১৬ আগস্টের মধ্যে যাঁদের ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ হবে না, তাঁদের ক্ষেত্রে পরবর্তী সময়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে। তবে বর্তমানে গ্রাহকদের সতর্ক করা হচ্ছে যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ই-কেওয়াইসি না হলে ভর্তুকিযুক্ত গ্যাসের পরিবর্তে বাণিজ্যিক মূল্যে সিলিন্ডার কিনতে হতে পারে।
বর্তমানে মালদায় ১৪.২ কেজির ভর্তুকিযুক্ত গৃহস্থালির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১,০৩৯ টাকা। ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ না হলে বাণিজ্যিক দরে সিলিন্ডার কিনতে হলে সেই মূল্য প্রায় ১,৭০০ থেকে ১,৮০০ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে ডিস্ট্রিবিউটরদের দাবি।
ডিস্ট্রিবিউটরদের আবেদন, যাঁদের এখনও ই-কেওয়াইসি বাকি রয়েছে, তাঁরা যেন নির্ধারিত সময়ের আগেই নিকটবর্তী গ্যাস এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ করেন।