নয়া জামানা: সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার অনিয়ম ও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তরে টানা ১৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। দীর্ঘ এই অনশনের জেরে তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে ওয়াংচুকের জীবন রক্ষায় প্রশাসনের অবিলম্বে হস্তক্ষেপ দাবি করে দিল্লি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন এক আইনজীবী। আদালতে দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলায় কেন্দ্র ও দিল্লি সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, লাগাতার অনশনের কারণে ইতিমধ্যেই সোনম ওয়াংচুকের ওজন প্রায় ৮.৫ কেজি হ্রাস পেয়েছে। চিকিৎসকদের আশঙ্কা, অবিলম্বে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা না দেওয়া হলে তাঁর জীবন মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। এই কারণে তাঁকে দ্রুত কোনও সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসাগত হস্তক্ষেপ কিংবা প্রয়োজনে ‘ফোর্স-ফিডিং’ বা জোরপূর্বক খাওয়ানোর ব্যবস্থা করার আর্জি জানানো হয়েছে। আবেদনে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিকের জীবনের অধিকার রক্ষা করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। তাই কোনও ব্যক্তি স্বেচ্ছায় অনশনে বসলেও তাঁর জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার দায়িত্ব প্রশাসনের এড়ানো উচিত নয়। সূত্রের খবর, দিল্লি হাইকোর্ট এই মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত শুনানির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
এদিকে, এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশজুড়ে বহু ছাত্র-যুব এবং সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা শামিল হয়েছেন। সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিশিষ্ট ব্যক্তি ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা তাঁকে অনশন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানিয়েছেন, যদিও তিনি নিজের সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে তাঁর আন্দোলনের প্রতি রাজনৈতিক সমর্থনও বাড়ছে। ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ সোশ্যাল মিডিয়ায় জানিয়েছেন যে, তৃণমূল প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোনম ওয়াংচুকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাঁর স্বাস্থ্যের খোঁজ নিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবিতে চলা এই আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং এই আন্দোলনের ভবিষ্যৎ কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে সব মহল।