রঞ্জন সাহা, নয়া জামানা, জলপাইগুড়ি : আগামী ১৯ জুলাই থেকে শুরু হচ্ছে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী জল্পেশ মন্দিরের শ্রাবণী মেলা। এই মেলাকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে শুক্রবার জল্পেশ মন্দির পরিদর্শন করলেন মুখ্যমন্ত্রীর প্রতিনিধি সহ জেলার উচ্চপদস্থ আধিকারিক ও জনপ্রতিনিধিরা।
এদিন মন্দির পরিদর্শনে আসেন সেক্রেটারি ইনফর্মেশন এন্ড কালচার অ্যাফেয়ার্স ডিপার্টমেন্টের ড: সৌমিত্র মোহন, ডিরেক্টর অফ কালচার কৌশিক বসাক সহ প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের আধিকারিকেরা। তাঁদের সঙ্গে ছিলেন ময়নাগুড়ির বিধায়ক ডালিম রায়, জেলা শাসক ও পুলিশের পদস্থ কর্তারা। মন্দির চত্বর, তিস্তা নদীর ঘাট এবং মেলার বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তাঁরা।
প্রতিবছর শ্রাবণ মাসে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার পুণ্যার্থী তিস্তা নদীর ঘাট থেকে জল মাথায় করে এনে জল্পেশ শিবের মাথায় জল ঢালেন। ভিড় ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এবছর রাজ্য সরকার বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রশাসনিক বৈঠকে মেলার নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য পরিষেবা, পানীয় জল, আলো, শৌচালয় এবং যান চলাচল ব্যবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বিধায়ক ডালিম রায় জানান, এবারের শ্রাবণী মেলায় প্রতি সোমবার হেলিকপ্টার থেকে পুষ্প বৃষ্টি করা হবে। এটি পুণ্যার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, এবছর তিস্তা নদীর ঘাটে জল নেওয়ার জন্য কোনও টিকিটের ব্যবস্থা থাকছে না। বিনামূল্যেই পুণ্যার্থীরা জল সংগ্রহ করতে পারবেন।
আধিকারিকরা মন্দির চত্বরের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখেন। সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি চিকিৎসা কেন্দ্র এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যারিকেডের বিষয়ে নির্দেশ দেন। মেলার সময় যাতে কোনও রকম বিশৃঙ্খলা না হয় তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মেলার সার্বিক তদারকির জন্য কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের খোঁজের জন্য সাহায্য কেন্দ্রও থাকবে। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাগুলিকেও সঙ্গে রাখা হবে।
উত্তরবঙ্গের এই প্রাচীন মেলাকে ঘিরে ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের মধ্যে উৎসাহ তুঙ্গে। প্রশাসনের আশা, এবারের শ্রাবণী মেলা শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হবে।
জল্পেশ মেলায় ঐতিহ্যবাহী বনভোজন, বংশপরম্পরায় রাত্রিযাপনে রাজবংশী সমাজ