রাখি গরাই, নয়া জামানা, বাঁকুড়া: বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাটি এলাকায় গত কয়েকদিন ধরে দুটি বুনো হাতির অবাধ বিচরণে চরম আতঙ্ক ছড়িয়েছে। কখনও জাতীয় সড়কে ঘোরাফেরা, আবার কখনও গভীর রাতে জনবসতিতে ঢুকে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি বাড়ছে। সন্ধ্যা নামলেই আতঙ্কে অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হতে সাহস পাচ্ছেন না। বনদপ্তরের নজরদারি থাকলেও এখনও পর্যন্ত হাতি দুটিকে জঙ্গলে ফেরানো সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরেই হাতি দুটি গঙ্গাজলঘাটি ও সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তারা গঙ্গাজলঘাটি হাসপাতাল কলোনিতে ঢুকে পড়ে। সেখানে একটি বাড়ির প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং উঠোনে থাকা একাধিক পাকা কাঁঠাল খেয়ে তাণ্ডব চালায়। বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায় বাসিন্দাদের। হাতির উপস্থিতি বুঝতে পেরে অনেকেই আতঙ্কে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে নিরাপদ আশ্রয় নেন। সঙ্গে সঙ্গে বনদপ্তরকে খবর দেওয়া হয়।
শুধু হাসপাতাল কলোনিই নয়, একই রাতে হাতি দুটি গঙ্গাজলঘাটি বাজার এলাকাতেও ঢুকে পড়ে। বাজার সংলগ্ন এলাকায় হাতির চলাচলের খবর ছড়িয়ে পড়তেই চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। রাতের অন্ধকারে হাতির গতিবিধি নিয়ে আতঙ্কে থাকেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রাতঃভ্রমণকারী এবং জাতীয় সড়ক ব্যবহারকারী গাড়িচালকদেরও সতর্ক থাকতে হচ্ছে, কারণ যে কোনও সময় হাতি রাস্তা পার হতে পারে।
এলাকাবাসীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতি বছরই এই সময় জঙ্গল থেকে হাতি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে। তবে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য এখনও কার্যকর কোনও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে বারবার একই সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
স্থানীয়দের দাবি, বনদপ্তর দ্রুত হাতি দুটির উপর কড়া নজরদারি চালিয়ে নিরাপদ উপায়ে তাদের জঙ্গলে ফিরিয়ে নিয়ে যাক। পাশাপাশি হাতির চলাচলপ্রবণ এলাকায় মাইকিং, সতর্কীকরণ বোর্ড এবং নিয়মিত টহলের ব্যবস্থাও জোরদার করার দাবি জানানো হয়েছে। বাসিন্দাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে যে কোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে। বর্তমানে গোটা গঙ্গাজলঘাটি এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বনদপ্তরের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এসআইআর আতঙ্কে মৃত ৬১ জনের পরিবারে চাকরির নিয়োগপত্র সোমে দেবেন মমতা