মুসাম্মদ আমরিন সুলতানা,নয়া জামানা, কলকাতা: সল্টলেকের সেন্ট্রাল পার্ক বা বইমেলা প্রাঙ্গণ মানেই বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে এক চেনা রাজনৈতিক আবহ। প্রতি বছর ২১ জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে এই মাঠ জুড়েই গড়ে উঠত শাসক দলের এক মিনি উত্তরবঙ্গ। দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর, মালদহ-সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার তৃণমূল কর্মী-সমর্থক এসে ভিড় জমাতেন এই চত্বরে। তাঁদের থাকা-খাওয়া, চিকিৎসা পরিষেবা, শৌচাগার থেকে শুরু করে সভাস্থলে যাওয়ার বাস—সবকিছুর তদারকিতে গমগম করত গোটা প্রাঙ্গণ। তবে বহু বছরের সেই চেনা চেনা ছবিটা এবার এক লহমায় বদলে গিয়েছে।
এবার আর সেখানে কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীদের স্লোগান বা ব্যস্ততা চোখে পড়ছে না। তার বদলে বইমেলা প্রাঙ্গণ সেজে উঠছে উৎসবের চেনা মেজাজে। চারিদিকে জোরকদমে চলছে রথযাত্রার মেলার প্রস্তুতি। যেখানে কয়েক দিন আগেও রাজনৈতিক শিবিরের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হতো, সেখানে এখন মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে বড় বড় নাগরদোলা। তৈরি হচ্ছে হরেক রকমের স্টল। রথের মেলার চেনা অনুষঙ্গ—গরম জিলিপি, পাঁপড় ভাজা, ঘরগেরস্থালির নানা সামগ্রী আর ছোটদের খেলনার দোকানে সেজে উঠছে মেলা প্রাঙ্গণ। এমনকি মেলার প্রবেশপথও রাঙিয়ে তোলা হয়েছে আকর্ষণীয় ও রঙিন আলপনায়। শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারতে এখন চূড়ান্ত ব্যস্ত আয়োজকেরা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, সল্টলেকের এই মাঠে রথের মেলা আগেও হতো, তবে তার আকার ছিল বেশ ছোট। সবচেয়ে বড় কথা, ২১ জুলাইয়ের তোড়জোড় শুরু হওয়ার আগেই সেই মেলা গুটিয়ে নেওয়া হতো। কিন্তু এবার ছবিটা একেবারেই উল্টো। মেলার পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে তার সময়সীমাও। সম্ভাব্য সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৫ জুলাই থেকে শুরু হয়ে এই মেলা চলতে পারে ৩ আগস্ট পর্যন্ত। ফলে স্বাভাবিকভাবেই ২১ জুলাইয়ের ক্যাম্পের আর কোনো সুযোগ থাকছে না এখানে। বছরের পর বছর ধরে রাজনৈতিক কর্মসূচির জন্য ব্যবহৃত এই চত্বর এবার পুরোপুরি মেতে উঠতে চলেছে সাধারণ মানুষের বিনোদনে। একসময়ের হাই-ভোল্টেজ রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু এবার শুধুই খই-মুড়কি আর নাগরদোলার আনন্দে ভরপুর, যা এলাকাবাসীর কাছেও এক অন্যরকম ও নতুন অভিজ্ঞতা।
‘সব বদলে দিন, সরকার বদলাবে না’, মুখ্যসচিবকে সরানোয় তোপ মমতার