অশোক মিত্র || নয়া জামানা || ধূপগুড়ি : রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পর উত্তরবঙ্গের একাধিক নদীবক্ষে নেমে এসেছে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত নীরবতা। তৃণমূল কংগ্রেসের পরাজয়ের ইঙ্গিত মিলতেই ধূপগুড়ি, জলপাইগুড়ি ও ময়নাগুড়ি এলাকার বিভিন্ন নদীতে বালি ও পাথর মাফিয়াদের দাপাদাপি কার্যত বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন স্থানীয় বাসিন্দা থেকে শুরু করে পরিবেশপ্রেমীরা।
গত কয়েক বছর ধরে জর্দা নদী, জলঢাকা নদী, ডুডুয়া নদী, আংরাভাষা ও গিলান্ডি নদীর চর এলাকায় দিনরাত চলত আর্থ-মুভার, ট্রাক ও ট্রলির শব্দ। স্থানীয়দের অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস-এর প্রচ্ছন্ন মদতেই দীর্ঘদিন ধরে এই নদীগুলি থেকে অবাধে অবৈধ বালি ও পাথর তোলা হচ্ছিল। প্রশাসনিক নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে নদীর বুক চিরে চলছিল প্রাকৃতিক সম্পদের লুট।
কিন্তু ভোটের ফলাফলের আভাস স্পষ্ট হতেই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। হঠাৎ করেই উধাও হয়ে যায় সেই পরিচিত যান্ত্রিক কোলাহল। বর্তমানে নদীর চরে নেই আর্থ-মুভার, নেই ট্রাকের লাইন। একসময় যেসব সরকারি বালি ঘাটকে ঘিরে বিতর্ক ছিল, সেগুলিও আপাতত বন্ধ রয়েছে। অবৈধ কারবারিরা তল্পিতল্পা গুটিয়ে এলাকা ছেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
এক বিজেপি নেতার বক্তব্য, যারা প্রশাসনের ছত্রছায়ায় এতদিন নদীর সম্পদ লুট করছিল, তারা বুঝে গিয়েছে এবার আইনের শাসন ফিরবে। তাই আগেভাগেই গা-ঢাকা দিয়েছে। যদিও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
পরিবেশবিদদের মতে, এই সাময়িক নিস্তব্ধতা নদীর স্বাস্থ্যের পক্ষে অত্যন্ত জরুরি। দীর্ঘদিন পর নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ও চরাঞ্চলের জীববৈচিত্র্য কিছুটা হলেও স্বস্তি পাচ্ছে। সাধারণ মানুষের ধারণা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে উত্তরবঙ্গের নদীগুলি যেন দীর্ঘ বঞ্চনার পর নতুন করে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে। তবে এই শান্ত পরিবেশ দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।