বাপ্পা রায়, নয়া জামানা, শিলিগুড়ি : শুভেন্দু অধিকারী-র আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথ খুনের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চারচাকা গাড়িটিতে লাগানো ছিল শিলিগুড়ির একটি ভুয়ো নম্বরপ্লেট। সেই সূত্র ধরেই তদন্তের গতি আরও জোরদার হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, খুনের দিন আততায়ীরা সম্পূর্ণ পরিকল্পনা করেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিল। চারচাকা গাড়ির পাশাপাশি একটি বাইকও ব্যবহার করা হয় বলে পুলিশের অনুমান। ঘটনার পর দ্রুত পালানোর ক্ষেত্রেও একই গাড়ি ব্যবহৃত হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণ করে গাড়িটির নম্বর ট্র্যাক করতে গিয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, নম্বরটি শিলিগুড়ি আরটিও-তে নথিভুক্ত।
এই তথ্য সামনে আসতেই তদন্তকারীদের নজর পড়ে শিবমন্দির এলাকার বাসিন্দা উইলিয়াম জোসেফের দিকে। কারণ, তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরের সঙ্গেই মিল পাওয়া যায় খুনে ব্যবহৃত গাড়ির নম্বরের। বুধবার গভীর রাতে তাঁকে থানায় ডেকে পাঠিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হয়। পুলিশের একাংশ মনে করছিল, নম্বরপ্লেটের সূত্রেই বড় কোনও যোগসূত্র সামনে আসতে পারে।
তবে পুলিশি জেরায় উইলিয়াম জোসেফ স্পষ্ট জানান, ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ যোগ নেই। প্রাথমিক তদন্তেও তাঁর বক্তব্যের সত্যতা মেলে। তদন্তকারীদের ধারণা, আততায়ীরা ইচ্ছাকৃতভাবেই তাঁর গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বর নকল করে ভুয়ো নম্বরপ্লেট তৈরি করেছিল, যাতে পুলিশকে বিভ্রান্ত করা যায়। সেই কারণেই জিজ্ঞাসাবাদের পর রাতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠছে, অপরাধ জগতে ভুয়ো নম্বরপ্লেট ব্যবহারের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে। বিশেষ করে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল খুনের ঘটনায় এমন কৌশল তদন্তকে কতটা জটিল করে তুলছে, তা নিয়েও আলোচনা শুরু হয়েছে। তদন্তকারী দল এখন একাধিক দিক থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে—সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল লোকেশন, বাইক ও গাড়ির গতিবিধি সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, খুব শীঘ্রই এই খুনের ঘটনায় জড়িতদের সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন তাকিয়ে গোটা রাজনৈতিক মহল ও সাধারণ মানুষ।