নয়া জামানা,নন্দীগ্রাম : প্রত্যাশিত জয় এসেছে, এবার রাজধর্ম পালনের পালা। নন্দীগ্রামের মাটি থেকে দলের কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে সংযত থাকার কড়া বার্তা দিলেন ভূমিপুত্র শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, ‘ওরা অনেক অত্যাচার করেছে। কিন্তু কেউ আইন হাতে তুলে নেবেন না। ওরা যা করেছে, আপনারা করবেন না। শান্তি বজায় রাখতে হবে।’ উস্কানিতে পা না দিয়ে দলের নিচুতলার কর্মীদের প্রতি তাঁর দাওয়াই— ‘ধৈর্য আর সহ্য’। তিনি মনে করিয়ে দেন, এই দুই মন্ত্রেই ২০১১ এবং ২০২৬-এর পরিবর্তনে তিনি সামিল ছিলেন। রাজনীতির কারবারিদের মতে, জয়ের উন্মাদনায় যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সেদিকেই বিশেষ নজর দিয়েছেন শুভেন্দু। বিজয় মিছিল নিয়েও তাঁর নির্দেশ অত্যন্ত কড়া। তিনি বলেন, ‘৯ তারিখের পর পুলিশের অনুমতি নিয়ে শান্তিতে করবেন। এখন দু-তিনটে দিন বিজয় মিছিল করবেন না।’ সেই সঙ্গেই বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে এবার ‘আসল পরিবর্তন’ সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর দাবি, বিজেপি সরকার এবং দল রাজ্যে এমন কাজ করবে যাতে আগামী ১০০ বছর এখানে ‘পদ্ম’ টিকে থাকে। আত্মবিশ্বাসের সুরে তিনি জানান, আগামীদিনে বিজেপি ৬০ শতাংশের বেশি ভোট পাবে। ভোট মিটতেই এবার আইনি পথে কঠোরভাবে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছেন শুভেন্দু। পূর্বতন তৃণমূল সরকারের আমলের বিভিন্ন অমীমাংসিত মামলা নিয়ে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘আগামীর বিজেপি সরকার ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) অনুযায়ী প্রতিটি মামলা খুলবে। আমরা ব্যবস্থা নেব।’ তবে কর্মীদের বিশৃঙ্খলায় না জড়িয়ে তিনি আশ্বস্ত করেছেন, ‘যারা গুন্ডা, চোর, তাদের দায়িত্ব আমার উপর ছেড়ে দিন। আইনের পথে যা করার সব করব।’ তাঁর সংযোজন, ‘অত্যাচারীরা কখনও জেতে না। ওই পাপীদের অফিসে হাত দেবেন না। ওদের উপেক্ষা করুন।’ উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দুই কেন্দ্রেই বড় ব্যবধানে জয়ী শুভেন্দুকে নিয়ে এখন রাজনৈতিক মহলে বড় প্রশ্ন, তিনি কোন আসনটি শেষ পর্যন্ত নিজের হাতে রাখবেন? বিধানসভার নিয়ম মেনে ১০ দিনের মধ্যে একটি আসন তাঁকে ছাড়তে হবে। দলীয় শৃঙ্খলার কথা মনে করিয়ে শুভেন্দুর জবাব, ‘আমাকে ১০ দিনের মধ্যে একটা আসন ছাড়তে হবে। আমার কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব যা সিদ্ধান্ত নেবে তা আমাকে মানতে হবে। একা কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না। আমি শৃঙ্খলাপরায়ণ।’ তবে তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, নন্দীগ্রামের মানুষের ঋণ তিনি উন্নয়ন দিয়েই শোধ করবেন। এদিন জয়ের আবহেও এলাকার উন্নয়নে একগুচ্ছ মেগা প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শুভেন্দু। সোনাচুরায় আইটিআই কলেজ, নতুন ইংরেজি মাধ্যম স্কুল থেকে শুরু করে কৃষিক্ষেত্রে বছরে দুবার ধান চাষের পরিকাঠামো গড়ার কথা বলেন তিনি। হলদিয়া-নন্দীগ্রাম ব্রিজ নির্মাণ এবং গ্রামীণ হাসপাতালগুলোর মানোন্নয়নের লক্ষ্য স্থির করে দিয়েছেন তিনি। ক্ষোভ উগরে দিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এই মমতা জলের পাইপ পাততে দেয়নি। ৬ মাসের মধ্যে জলের পাইপ প্রত্যেকের বাড়িতে পৌঁছে যাবে।’ সেই সঙ্গে রাজ্যে সর্বধর্মের উৎসব পালনের নিশ্চয়তা দিয়ে তিনি জানান, দুর্গোৎসব, রামনবমী ও রথযাত্রা, সব মন্দির ও স্কুল এবার সেজে উঠবে। তাঁর শেষ কথা, ‘আমরা আমাদের সঙ্কল্পপত্র পূরণ করব।’ ছবি সংগৃহিত।
বিজেপি নয়, ‘সম্মানজনক শর্তে’ তৃণমূলকে, সমর্থন করতে রাজি ‘বিদ্রোহী’ হুমায়ুন কবীর