নয়া জামানা, কলকাতা : বুথ দখল কিংবা ভোট ঘিরে অশান্তির খবর এলেই চোখের নিমেষে অকুস্থলে পৌঁছে যাবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’। আগামী ২৩ এপ্রিল বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফায় কড়া প্রহরায় ভোট করতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। ১৬টি জেলার ১৫২টি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য নামানো হচ্ছে ২,১৯৩টি বিশেষ বাহিনী। যার সিংহভাগই মোতায়েন থাকছে মুর্শিদাবাদ ও পূর্ব মেদিনীপুরে। কমিশনের লক্ষ্য স্পষ্ট— গোলমালের খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যাঘাত হানবে এই ভ্রাম্যমাণ দল। বাহিনী যাতে কোনোভাবেই লক্ষ্যভ্রষ্ট না হয়, তার জন্য আঁটসাঁট পরিকল্পনা সেরেছে কমিশন। প্রতিটি কুইক রেসপন্স টিমের গাড়িতে নজরদারির জন্য ক্যামেরা থাকা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘প্রতি দলে অন্তত এক জন করে রাজ্য পুলিশের এসআই বা এএসআই পদমর্যাদার পুলিশকর্মী থাকবেন। তাঁদের সঙ্গে থাকবেন কমপক্ষে চার থেকে ছ’জন করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান।’ পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কোথাও কোথাও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানের সংখ্যা বাড়ানোও হতে পারে। বাহিনীর হাতে সংশ্লিষ্ট বুথের নকশা তুলে দিচ্ছে কমিশন, যাতে গোলমালের খবর আসা মাত্রই পথ খুঁজতে বেগ পেতে না হয়। প্রতিটি দল প্রতি মুহূর্তে সেক্টর অফিস এবং কন্ট্রোল রুমের সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখে কাজ করবে। আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়াই এখন কমিশনের মূল কৌশল। কমিশনের পরিসংখ্যান বলছে, প্রথম দফায় সবচেয়ে বেশি কিউআরটি থাকছে স্পর্শকাতর মুর্শিদাবাদ জেলায়। জেলার দুই পুলিশ বিভাগ মিলিয়ে মোট ২৮৮টি দল মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ২১৯টি এবং জঙ্গিপুরে ৬৯টি দল ঘুরবে। দ্বিতীয় স্থানেই রয়েছে শুভেন্দু অধিকারীর গড় হিসেবে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুর। সেখানে থাকছে ২৫৩টি কিউআরটি। এর ঠিক পরেই ২৪৮টি দল নিয়ে প্রস্তুত থাকছে পশ্চিম মেদিনীপুর। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলির মধ্যে মালদহে ১৫৭টি এবং কোচবিহারে ১৩৩টি টিম কাজ করবে। জঙ্গলমহল থেকে পাহাড়, সর্বত্রই থাকবে বাহিনীর কড়া নজরদারি। অন্যান্য জেলার মধ্যে বীরভূমে ১৬১টি, বাঁকুড়ায় ১৮০টি এবং পুরুলিয়ায় ১৩৯টি কিউআরটি মোতায়েন করছে কমিশন। শিল্পাঞ্চল আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১৩টি দল। জলপাইগুড়িতে ৮৩টি, দক্ষিণ দিনাজপুরে ৭৫টি, আলিপুরদুয়ারে ৭০টি এবং ঝাড়গ্রামে ৬৬টি টিম কাজ করবে। পাহাড়েও বিশেষ নজর দিচ্ছে কমিশন। দার্জিলিঙে ৫২টি, শিলিগুড়িতে ৩৯টি এবং কালিম্পঙে ১৭টি দল ভোটের দিন সক্রিয় থাকবে। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুর ও রায়গঞ্জ পুলিশ জেলায় থাকছে যথাক্রমে ৫৪ ও ৭৫টি কুইক রেসপন্স টিম। প্রতিটি জেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও স্পর্শকাতরতা বিচার করেই এই বণ্টন করা হয়েছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রশাসনিক নজরদারিতেও কোনও খামতি রাখছে না কমিশন। আট থেকে দশটি বুথ পিছু একটি করে সেক্টর অফিস গড়া হচ্ছে। রাজ্যে সবচেয়ে বেশি ৪৩০টি সেক্টর অফিস থাকছে পূর্ব মেদিনীপুরে। এছাড়া মুর্শিদাবাদ পুলিশ জেলায় ৩৯৩টি, পশ্চিম মেদিনীপুর ও বাঁকুড়ায় ৩৮০টি করে অফিস গড়া হয়েছে। জঙ্গলমহলের পুরুলিয়া ও বীরভূমেও অফিসের সংখ্যা যথাক্রমে ২৯৭ এবং ২৮৩টি। আসানসোল-দুর্গাপুরে থাকছে ২১৫টি অফিস। উত্তরবঙ্গের মালদহে ২৬১টি ও কোচবিহারে ২৪৩টি সেক্টর অফিস থেকে ভোটের দিন অপারেশন পরিচালনা করা হবে। এছাড়াও জলপাইগুড়িতে ১৮৯টি, আলিপুরদুয়ারে ১৩৫টি, দার্জিলিঙে ১২৯টি, শিলিগুড়িতে ৯৫টি ও কালিম্পঙে ৫৫টি অফিস থাকছে। রায়গঞ্জ ও ইসলামপুর পুলিশ জেলায় যথাক্রমে ১১০টি ও ৯৪টি সেক্টর অফিস কাজ করবে। দক্ষিণ দিনাজপুরে থাকছে ১৪৬টি অফিস। মূলত ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ভোট প্রক্রিয়াকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ রাখাই এখন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ। অভিযোগ পেলেই যাতে বাহিনী নির্ভুল নিশানায় পৌঁছাতে পারে, তার জন্য প্রযুক্তির সঙ্গে অভিজ্ঞ পুলিশকর্মীদের মেলবন্ধন ঘটানো হচ্ছে এই প্রথম দফায়। কমিশনারের সাফ বার্তা, কোথাও কোনও বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না। ফাইল ফটো।