নয়া জামানা ডেস্ক : পরিবর্তিত বিশ্ব পরিস্থিতিতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে ফের মুখোমুখি হচ্ছে ভারত এবং আমেরিকা। সোমবার থেকে ওয়াশিংটনে শুরু হচ্ছে তিন দিনের হাই-ভোল্টেজ বৈঠক। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন শুল্কনীতির ধাক্কায় আগের খসড়াটি এখন কার্যত বিশ বাঁও জলে। তাই বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে চুক্তির প্রতিটি শর্ত পুনর্বিবেচনা করতে চাইছেন দু’দেশের কূটনীতিকরা। ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন বাণিজ্য মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব দর্পণ জৈন। ১২ জন পদস্থ আধিকারিককে নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই আমেরিকার পথে। আসলে সব হিসেব ওলটপালট করে দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি সাম্প্রতিক রায়। ট্রাম্পের পুরনো শুল্কনীতি আদালত নাকচ করে দেওয়ার পর, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে সব দেশের ওপর ঢালাও ১০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছে ওয়াশিংটন। পিটিআই সূত্রের খবর, এই বিশেষ পরিস্থিতির কারণেই ৭ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চুক্তির খসড়াটি নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন হয়ে পড়েছে। আগের খসড়ায় ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৮ শতাংশ করার কথা বলেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। বিনিময়ে মার্কিন পণ্যে ছাড় দেওয়ার কথা ছিল দিল্লিরও। কিন্তু নতুন ‘ফ্ল্যাট ১০ পার্সেন্ট’ শুল্কের জেরে ভারত যে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছিল, তা এখন প্রশ্নের মুখে। গত কয়েক মাস মুখোমুখি বৈঠক না হলেও দু’পক্ষের মধ্যে পর্দার আড়ালে ভার্চুয়াল আলোচনা জারি ছিল। কেন্দ্রীয় বাণিজ্যসচিব রাজেশ অগ্রবাল জানিয়েছেন, ‘সামনাসামনি না-বসলেও দু’পক্ষের মধ্যে ভার্চুয়াল আলোচনা হয়েছে এই পর্বেও।’ ফেব্রুয়ারিতে প্রস্তাবিত বৈঠকটি স্থগিত হওয়ার পর এই সোমবারের আলোচনার দিকে তাকিয়ে আছে বাণিজ্য মহল। যখন খসড়া তৈরি হয়েছিল, তখন ভারত অন্যান্য প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের তুলনায় সুবিধাজনক অবস্থায় থাকলেও এখন ছবিটা ভিন্ন। মার্কিন মুলুকে সব দেশের জন্য সমান শুল্ক কার্যকর হওয়ায় ভারতের দর কষাকষির জায়গাটি নতুন করে সাজাতে হচ্ছে। আগামী তিন দিন ওয়াশিংটনের টেবিলে শুল্কের জট ছাড়িয়ে নতুন কোনও রফাসূত্র বেরোয় কি না, এখন সেটাই দেখার। ফাইল ফটো।