নয়া জামানা, ভাঙর : ভাঙড়ের মাটি থেকে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে লক্ষ্য করে তিনি তোপ দাগলেন। তাঁর অভিযোগ, ভাঙড়ের প্রভাবশালী নেতা শওকত মোল্লাকে খুনের চক্রান্ত করছে গেরুয়া শিবির। একইসঙ্গে শওকতের নিরাপত্তা নিয়েও সরব হয়েছেন নেত্রী। প্রয়োজনে নিজের নিরাপত্তা ছেড়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছেন তিনি। ভাঙড়ের সভা থেকে মমতার স্পষ্ট ঘোষণা, ‘শওকতকে খুন করতে চায় ওরা। ওর সিকিউরিটি তুলে নিতে চায় বিজেপি-কে বলে। ওর যদি কোনও রকম কোনও ক্ষতি হয়, তখন কাউকে ছেড়ে কথা বলব না।’ মোদীকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বিজেপির হিম্মত নেই। আমার সঙ্গে লড়তে পারে না। ওরা শওকতকে নিয়ে পড়েছে। আমি যদি বাঁ হাত হই, শওকত আমার ডান হাত।’ নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শনিবার বিজেপি নেতাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়েও কটাক্ষ করেন। মমতা বলেন, ‘বিজেপির নেতারা ২০-৩০টা করে গাড়িতে সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। আর শওকতদের সিকিউরিটি কেড়ে নেওয়া হবে। কারণ বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং কমিশন অর্ডার দেবে। মনে রাখবেন, মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না। মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে খেলবেন না। আমার সিকিউরিটি তুলে নিন। যদি সে রকম হয় আমি আমার সিকিউরিটি তুলে নিয়ে শওকতকে দেব। দেখি আপনারা কী করতে পারেন। আমার সিকিউরিটির দরকার নেই।’ মৃত্যুভয় যে তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না, তা জানিয়ে নেত্রী বলেন, ‘আমি ওসব গুন্ডা-টুন্ডাকে ভয় পাই না। আমাকে বোম, বন্দুক দিয়ে মেরেও কিছু করা যাবে না। জন্মেছি এক দিন, মৃত্যু এক দিন হবেই। তবে বিজেপি-কে আমি দেখে ছাড়ব। ওদের আমি ছাড়ব না।’ নির্বাচনী জনসভায় দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বিজেপি নেতাদের কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়েও কটাক্ষ করেন। মমতা বলেন, ‘বিজেপির নেতারা ২০-৩০টা করে গাড়িতে সেন্ট্রাল ফোর্স নিয়ে ঘুরে বেড়াবে। আর শওকতদের সিকিউরিটি কেড়ে নেওয়া হবে। কারণ বিজেপির ভ্যানিশ ওয়াশিং কমিশন অর্ডার দেবে। মনে রাখবেন, মানুষের জীবন নিয়ে খেলবেন না। মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে খেলবেন না। আমার সিকিউরিটি তুলে নিন। যদি সে রকম হয় আমি আমার সিকিউরিটি তুলে নিয়ে শওকতকে দেব। দেখি আপনারা কী করতে পারেন। আমার সিকিউরিটির দরকার নেই।’ মৃত্যুভয় যে তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না, তা জানিয়ে নেত্রী বলেন, ‘আমি ওসব গুন্ডা-টুন্ডাকে ভয় পাই না। আমাকে বোম, বন্দুক দিয়ে মেরেও কিছু করা যাবে না। জন্মেছি এক দিন, মৃত্যু এক দিন হবেই। তবে বিজেপি-কে আমি দেখে ছাড়ব। ওদের আমি ছাড়ব না।’ ভাঙড়ের উন্নয়ন নিয়ে নেত্রী এদিন দাবি করেন, একসময় সেখানে কোনও কাজই হয়নি। কৃষিজমি দখল হচ্ছিল। তৃণমূল সরকারের আমলে সেখানে ১১০০ একর জমিতে লেদার হাব গড়ে তোলা হয়েছে। এতে ৫ লক্ষ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আরও ২ লক্ষ নতুন চাকরি হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি। ভাঙড়কে দেশের লেদার হাব হিসেবে চিহ্নিত করে মমতার দাবি, ‘বিজেপির হাত যাঁরা শক্ত করছে, সেই গদ্দারদের পরাস্ত করুন। এই ভাঙড়ের মাটিতে কৃষিজমি দখল করে নিচ্ছিল। এখানে কোনও উন্নয়ন ছিল না।’ সংখ্যালঘুদের স্কলারশিপের হিসেব দিয়ে তিনি জানান, তাঁর আমলে ৪ কোটি পড়ুয়া স্কলারশিপ পেয়েছে। পাশাপাশি ভাঙড়ে হাসপাতাল তৈরির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইসলামিয়া হসপিটাল ভাঙড়ের এই হসপিটাল তৈরি করবে। ইতিমধ্যে আমাদের কাছেও এই প্রস্তাব পাঠিয়েছে। সেটাও হয়ে যাবে।’ দিল্লির সরকার এবং প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে নেত্রীর কটাক্ষ ছিল অত্যন্ত তীক্ষ্ণ। মোদীর জাতির উদ্দেশে ভাষণকে ‘মিথ্যার ফুলঝুরি’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তৃণমূল নেত্রীর দাবি, ‘ওঁর ভাষণ মানে মিথ্যার ফুলঝুরি, মোদীকে তোপ মমতার। ওঁর ভাষণ শুনে মানুষের রেশন মিলবে না।’ দিল্লি জয়ের ইঙ্গিত দিয়ে মমতার দাবি, ‘সবাইকে এক করে কালকে দিল্লিতে হারিয়েছি। বিজেপি ধপাস। মাইনোরিটি গভর্নমেন্ট। দু’জনের সাপোর্ট নিয়ে চালাচ্ছে। যে দিন উইথড্র করে নেবে… মানে টুক টুক করে আগুন জ্বলছে।’ মহিলা বিলের সঙ্গে ডিলিমিটেশন জুড়ে দিয়ে দেশভাগের পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। ভাঙড়ের বিজেপি কর্মীদের ‘দালাল’ সম্বোধন করে নেত্রী বলেন, ‘ভাঙড়ে কতগুলো বিজেপির দালাল আছে, টুক টুক করে বোম মারে, আর বিজেপি-কে ফোন করে বলে একে অ্যারেস্ট করিয়ে দাও, ওকে অ্যারেস্ট করিয়ে দাও। আমি সব জানি।’ ক্যানিং পূর্বের প্রার্থী বাহারুল ইসলাম ও ভাঙরের শওকত মোল্লাকে জয়ী করার ডাক দেন মমতা। সবশেষে প্রধানমন্ত্রীর পতন শুরু হয়ে গিয়েছে বলে দাবি করে তাঁর কটাক্ষ, ‘কাল থেকে পতন শুরু হয়েছে। তাই বাবুকে আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে হচ্ছে। বাপরে, কত বড় জাতির নেতা!’ ছবি সংগৃহিত।