নয়া জামানা, কলকাতা : ৯০ দিন পার হলেও মিলল না চার্জশিট। বেলডাঙাকাণ্ডে বড়সড় ধাক্কা খেল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা এনআইএ। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্তের গতিপ্রকৃতি বা প্রামাণ্য রিপোর্ট পেশ করতে না পারায় শনিবার শর্তসাপেক্ষে জামিন পেলেন ১৫ জন অভিযুক্ত। এনআইএ-র বিশেষ আদালতের বিচারক ১০ হাজার টাকার বন্ডে এই মুক্তি মঞ্জুর করেছেন। তবে এখনই ঘরের ছেলে ঘরে ফিরতে পারছেন না। আদালতের কড়া নির্দেশ, আপাতত কলকাতা পুরসভা এলাকার বাইরে পা রাখা চলবে না তাঁদের।
তদন্তকারী সংস্থার এই ব্যর্থতা নিয়ে ইতিমধ্যেই শোরগোল শুরু হয়েছে আইনি মহলে। এনআইএ-র আইনজীবী শ্যামল ঘোষ জানিয়েছেন, ‘এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টে যাচ্ছি আমরা।’ প্রসঙ্গত, বেলডাঙার ঘটনায় মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তাঁদের মধ্যে ১৫ জন রেহাই পেলেও বাকি ২০ জন এখনও জেল হেফাজতেই রয়েছেন। গত জানুয়ারি মাসে পরিযায়ী শ্রমিক আলাউদ্দিন শেখের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছিল মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা। ঝাড়খণ্ডে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছিলেন ওই শ্রমিক। ১৬ জানুয়ারি গ্রামে দেহ পৌঁছতেই ক্ষোভ আছড়ে পড়ে রাস্তায়। ভাঙচুর, রেল অবরোধ থেকে শুরু করে জাতীয় সড়কে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অভিযোগ ওঠে সংবাদমাধ্যমের ওপর হামলারও। প্রথমে রাজ্য পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ দেখে ধরপাকড় শুরু করলেও পরবর্তীকালে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে মামলার ভার নেয় এনআইএ।
শনিবারের শুনানিতে এনআইএ-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। চার্জশিট জমা দেওয়ার সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কেন চূড়ান্ত রিপোর্ট এল না, তার সদুত্তর মেলেনি। তদন্তের অগ্রগতি নিয়েও আদালতের কাছে স্পষ্ট কোনও তথ্য ছিল না। এর পরেই বিচারক ১৫ জনের জামিন মঞ্জুর করেন। তবে এই মুক্তির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছে একাধিক কঠিন শর্ত। অভিযুক্তদের গতিবিধির ওপর থাকবে কড়া নজরদারি। মামলার প্রতিটি শুনানিতে তাঁদের সশরীরে হাজিরা দিতে হবে। আদালত সূত্রে খবর, এর আগে অভিযুক্তদের বেলডাঙা থেকে কলকাতায় আনা নিয়ে চরম জটিলতা তৈরি হয়েছিল। কখনও পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার অভাব, কখনও আবার প্রশাসনিক টালবাহানায় ব্যাহত হয়েছে শুনানি। অভিযুক্তদের কলকাতায় রাখার নির্দেশ দিয়ে সেই জট কাটাতে চাইছে আদালত। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় এই তদন্তকারী সংস্থা এর আগে অভিযোগ তুলেছিল যে রাজ্য সরকার তাদের কেস ডায়েরি দিচ্ছে না। যা নিয়ে আদালতের ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়েছিল প্রশাসনকে। পরবর্তীকালে কেস ডায়েরি হাতে এলেও ৯০ দিনের মাথায় আইনি লড়াইয়ে ব্যাকফুটে চলে গেল এনআইএ। ফেব্রুয়ারি মাসে নাটকীয়ভাবে অভিযুক্তদের আদালতে হাজির করা সম্ভব হলেও শেষরক্ষা হল না। আপাতত কড়া নজরদারিতেই দিন কাটবে জামিন পাওয়া ওই ১৫ জনের। ছবি সংগৃহিত ।