নয়া জামানা, কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে কেন এখনও চালু হল না ‘আয়ুষ্মান ভারত’? কেন্দ্রীয় সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য প্রকল্প নিয়ে এবার রাজ্য সরকারের হলফনামা তলব করল কলকাতা হাইকোর্ট। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেনের ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়েছে, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে রাজ্যকে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে। বিধানসভা নির্বাচনের আবহে স্বাস্থ্য বিমা নিয়ে আইনি এই টানাপড়েন নবান্নের অস্বস্তি বাড়াল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
রাজ্যে আয়ুষ্মান ভারত কার্যকর না হওয়া নিয়ে জনস্বার্থ মামলা করেছিলেন বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে যুক্ত হন দলের আরও ১২ জন সাংসদ। সেই মামলার শুনানিতেই বুধবার কড়া অবস্থান নেয় আদালত। মামলার আবেদনকারীর আইনজীবীর সওয়াল ছিল, দেশের অন্যান্য রাজ্যের মানুষ এই প্রকল্পের সুবিধা পেলেও বাংলার মানুষ ব্রাত্য হয়ে রয়েছেন। রাজ্য সরকার ২০১৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর একটি মউ স্বাক্ষর করলেও ২০১৯ সালে তা প্রত্যাহার করে নেয়। ফলে প্রান্তিক মানুষজন বঞ্চিত হচ্ছেন।
রাজ্যের তরফে অবশ্য এদিন আদালতে কিছুটা সময় চাওয়া হয়। সরকারি কৌঁসুলি জানান, বিষয়টি নিয়ে বক্তব্য পেশ করতে তাঁদের আরও সময়ের প্রয়োজন। সেই আর্জি মেনে নিয়ে প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ চার সপ্তাহ সময় মঞ্জুর করেছে। চার সপ্তাহ পর রাজ্য হলফনামা দিলে তার পরবর্তী দুই সপ্তাহের মধ্যে পাল্টা জবাব দিতে পারবেন মামলাকারী।
এই মামলা প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্য আগেই সরব হয়েছিলেন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে। তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম টেনে অভিযোগ করেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও সোশাল ওয়েলফেয়ার প্রজেক্টই পশ্চিমবঙ্গে কার্যকর করতে দেওয়া হচ্ছে না ৷ এগুলি বাস্তবায়িত হলে প্রান্তিক মানুষ, অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিকরা উপকৃত হবেন ৷ এই সরকার শ্রমিক বিরোধী ৷ তাই আয়ুষ্মান ভারতের মতো জনকল্যাণমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত করা নিয়ে মামলা করতে হচ্ছে ৷ রাজনীতিতে একটা সরকার যখন কোনও প্রকল্প ঘোষণা করে, তখন তা বাস্তবায়িত করতে নির্দিষ্টভাবে রাজ্যের ভূমিকা থাকে ৷ কিন্তু, এই রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রথম থেকেই ঠিক করে রেখেছেন প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে দেবেন না ৷’
আইনজীবীদের একাংশ মনে করছেন, স্বাস্থ্যসাথী বনাম আয়ুষ্মান ভারতের যে লড়াই গত কয়েক বছর ধরে চলছে, আদালতের এই হস্তক্ষেপ তাকে নতুন মাত্রা দিল। কেন্দ্রের দাবি, এটি একটি বিশ্বজনীন প্রকল্প যা ভিন রাজ্যে চিকিৎসা করাতেও সাহায্য করে। অন্যদিকে রাজ্যের যুক্তি ছিল, তাদের নিজস্ব স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প অনেক বেশি কার্যকর। এখন হলফনামায় রাজ্য ঠিক কী যুক্তি খাড়া করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল। মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ছয় সপ্তাহ পরে।