ব্রেকিং

ভোটের টানে ‘বাম’ পন্থায় পদ্ম শিবির

নয়া জামানা,কলকাতা : ভোটের মুখে ভোলবদল গেরুয়া শিবিরের। রাজপথের চেনা মিছিল ছেড়ে এবার গ্রামের অলিগলিই পাখির চোখ বিজেপির। লক্ষ্য একটাই, আমজনতার অন্দরমহলে সেঁধিয়ে যাওয়া। দিল্লির হাইকম্যান্ডের নির্দেশে বঙ্গ বিজেপি নেতাদের এখন নতুন ‘হোমটাস্ক’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে জল খেতে চাওয়া আর....

ভোটের টানে ‘বাম’ পন্থায় পদ্ম শিবির

নয়া জামানা,কলকাতা : ভোটের মুখে ভোলবদল গেরুয়া শিবিরের। রাজপথের চেনা মিছিল ছেড়ে এবার গ্রামের অলিগলিই পাখির....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা,কলকাতা : ভোটের মুখে ভোলবদল গেরুয়া শিবিরের। রাজপথের চেনা মিছিল ছেড়ে এবার গ্রামের অলিগলিই পাখির চোখ বিজেপির। লক্ষ্য একটাই, আমজনতার অন্দরমহলে সেঁধিয়ে যাওয়া। দিল্লির হাইকম্যান্ডের নির্দেশে বঙ্গ বিজেপি নেতাদের এখন নতুন ‘হোমটাস্ক’ বাড়ি বাড়ি গিয়ে জল খেতে চাওয়া আর গল্পের ছলে রাজনীতির পাঠ দেওয়া। শুধু লিফলেট বিলি নয়, বরং ভোটারদের মনের কথা শুনে পদ্ম শিবিরের ঝুলি ভরানোই এখন মূল কৌশল। রাজনৈতিক মহলের মতে, জনসংযোগের এই কায়দা অনেকটা পুরনো আমলের সিপিএমের রণকৌশলকে মনে করিয়ে দিচ্ছে।

দিল্লি থেকে রাজ্য নেতৃত্বের কাছে স্পষ্ট বার্তা গিয়েছে, মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে হবে। পরিবর্তনের ডাক দিতে হবে ঘরের দাওয়ায় বসে। দলীয় সূত্রের দাবি, এই পদ্ধতিতে ইতিমধ্যেই গোপনে প্রায় দেড় লক্ষ ছোট বৈঠক সেরে ফেলেছে বিজেপি। বর্তমানে রাজ্যজুড়ে নয়টি রুট দিয়ে চলছে পরিবর্তন যাত্রার রথ। প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে ২৫০টি বিধানসভা ছুঁয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এই যাত্রার। এর পাশাপাশি ৩০০টিরও বেশি ছোট সভার আয়োজন করা হয়েছে।

দিল্লির নির্দেশিকা অনুযায়ী, নেতাদের প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি করে বুথ পরিদর্শনে যেতে হবে। সেখানে কর্মীদের চাঙ্গা করার পাশাপাশি স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে বোঝাতে হবে বিজেপি ক্ষমতায় এলে কী কী কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। এর সঙ্গে জনমানসে প্রভাব ফেলতে গ্রামের পরিচিত মন্দিরে পুজো দেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে নেতাদের।

এবার শুধু নেতাদের প্রতিশ্রুতি নয়, সাধারণ মানুষের অভাব-অভিযোগ শুনে তৈরি হচ্ছে নির্বাচনী ইস্তাহারে। এলাকার স্থানীয় সমস্যা মেটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৈরি এই ‘সংকল্পপত্র’ সাজাতে বুথে বুথে রাখা হয়েছে মতামত বাক্স ও ফর্ম। রাজ্যভিত্তিক বড় প্রতিশ্রুতির বদলে এবার পাড়ার ছোট সমস্যার সমাধানে বেশি জোর দিচ্ছে গেরুয়া শিবির।

তবে ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে যখন হাতে মাত্র আর কিছুদিন সময়, তখন এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। দীর্ঘ তিন বছর সংগঠন নিয়ে ঢিলেমি দেওয়ার পর এখন কেন এই তৎপরতা? প্রশ্ন উঠছে, ‘পরীক্ষা যখন দোড়গোড়ায়, তখন পড়াশোনা কেন?’ নিচুতলার সংগঠন যেখানে এখনও নড়বড়ে, সেখানে শেষ মুহূর্তের এই জনসংযোগ ভোটবাক্সে কতটা পদ্ম ফোটাতে পারবে, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গিয়েছে খোদ বঙ্গ বিজেপির অন্দরেই।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর