নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই বঙ্গজুড়ে আধা সামরিক বাহিনী দিয়ে নিরাপত্তা চাদরে মুড়ে ফেলতে চাইছে নির্বাচন কমিশন । ১০ মার্চ থেকে রাজ্যে দ্বিতীয় দফার কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের সম্পূর্ণ রূপরেখা চূড়ান্ত করল নির্বাচন কমিশন। প্রথম দফার ২৮০ কোম্পানির পর আরও ২৮০ কোম্পানি বাহিনী জেলায় জেলায় ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী মঙ্গলবার থেকে বাংলায় মোট ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী টহল দেবে। কমিশনের এই মেগা পরিকল্পনায় সর্বাধিক গুরুত্ব পেয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা ও মুর্শিদাবাদ। স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে ভোটারদের আস্থা ফেরানোই এখন পাখির চোখ দিল্লির।
শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে এলাকা পরিদর্শনে কোনও খামতি রাখছে না কমিশন। দ্বিতীয় দফায় আসা ২৪০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে থাকছে সিআরপিএফ-এর ১২০ কোম্পানি, বিএসএফ-৬৫ কোম্পানি, আইটিবিপি-২০ কোম্পানি, এসএসবি-১৯ কোম্পানি এবং সিআইএসএফ-এর ১৬ কোম্পানি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের কড়া নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকবেন। মূলত রুট মার্চ এবং এলাকা পরিদর্শনের মাধ্যমেই পরিস্থিতির ওপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে চাইছে কমিশন। রাজ্য পুলিশের হাতে পর্যাপ্ত বাহিনী না থাকা এবং আইনি জটিলতার কারণে কেন্দ্রীয় বাহিনীর ওপর এই নির্ভরতা বলে মনে করা হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা জেলা এখন কমিশনের অগ্রাধিকারের শীর্ষে। এখানে তিন পুলিশ জেলা এবং দুই কমিশনারেট মিলিয়ে বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৮ কোম্পানি। এর মধ্যে বারাসতে ১১, বসিরহাটে ১৭ এবং ব্যারাকপুর কমিশনারেটে ১৯ কোম্পানি জওয়ান মোতায়েন থাকছেন। সমানুপাতিক গুরুত্ব পাচ্ছে মুর্শিদাবাদও। সেখানেও মোট বাহিনীর সংখ্যা দাঁড়াচ্ছে ৫৮ কোম্পানি। তিলোত্তমা কলকাতাও পিছিয়ে নেই। প্রথম দফার ১২ কোম্পানির সঙ্গে আরও ১৮ কোম্পানি যুক্ত হয়ে মহানগরে মোট ৩০ কোম্পানি বাহিনী টহল দেবে। দক্ষিণ ২৪ পরগনায় মোতায়েন থাকছে ৩৩ কোম্পানি জওয়ান।
অন্যান্য জেলাগুলির মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরে ২৮ কোম্পানি, হুগলিতে ২৭ কোম্পানি এবং পূর্ব বর্ধমানে ২৫ কোম্পানি বাহিনী পাঠানো হচ্ছে। নদিয়া জেলায় ২২ কোম্পানি বাহিনী ভাগ করা হয়েছে কৃষ্ণনগর (১৩) ও রানাঘাট (৯) পুলিশ জেলায়। হাওড়া ও বীরভূমে ২১ কোম্পানি করে বাহিনী থাকছে। জঙ্গলমহলের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুরুলিয়া ও পশ্চিম মেদিনীপুরে ২০ কোম্পানি করে এবং বাঁকুড়ায় ১৩ ও ঝাড়গ্রামে ১১ কোম্পানি জওয়ান থাকছেন।
উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে মালদহে ১৮, কোচবিহারে ১৫, জলপাইগুড়িতে ১০, আলিপুরদুয়ারে ৭ এবং দার্জিলিং ও কালিম্পঙে যথাক্রমে ১৬ ও ৪ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন হচ্ছে। এছাড়া পশ্চিম বর্ধমানে ১৭ এবং উত্তর দিনাজপুরে ১৯ কোম্পানি জওয়ান এলাকা দখল ও ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর কাজ করবেন। ভোটার তালিকা নিয়ে জনমানসে তৈরি হওয়া ক্ষোভ প্রশমন করা এবং এলাকা পরিদর্শন, ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি ও যে কোনও অভিযোগ সরেজমিন খতিয়ে দেখে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট দেওয়াই হবে এই বাহিনীর মূল লক্ষ্য ।