ব্রেকিং
  • Home /
  • মহানগর /
  • ‘ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন’, মমতা অভিষেককে বিঁধে শাহী-টোপ

‘ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন’, মমতা অভিষেককে বিঁধে শাহী-টোপ

নয়া জামানা ডেস্ক : বাংলার বিধানসভা ভোটের দামামা বাজিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে কার্যত একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির ডালি সাজিয়ে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা থেকে শুরু করে সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি— ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চ....

‘ক্ষমতায় এলে সপ্তম বেতন কমিশন’, মমতা অভিষেককে বিঁধে শাহী-টোপ

নয়া জামানা ডেস্ক : বাংলার বিধানসভা ভোটের দামামা বাজিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে কার্যত একগুচ্ছ....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : বাংলার বিধানসভা ভোটের দামামা বাজিয়ে দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘি থেকে কার্যত একগুচ্ছ জনমোহিনী প্রতিশ্রুতির ডালি সাজিয়ে ধরলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। সপ্তম বেতন কমিশন কার্যকর করা থেকে শুরু করে সরকারি চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি— ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মঞ্চ থেকে সোমবার রাজ্যবাসীর মন জয়ে একগুষ্ট বড় ঘোষণা করলেন তিনি। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে ৪৫ দিনের মধ্যে সপ্তম বেতন কমিশনের সুবিধা পাবেন সরকারি কর্মীরা। একইসঙ্গে ২০২৬ সালের মধ্যে সমস্ত শূন্যপদে স্বচ্ছ নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে মমতার ‘ভাইপো’ শাসনের অবসান ঘটানোর ডাক দিলেন শাহ।

মথুরাপুর সাংগঠনিক জেলার এই জনসভা থেকে অমিত শাহের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইস্তাহার প্রকাশের আগেই শাহের এই ঘোষণাগুলিকে রাজনৈতিক মহল বিধানসভা ভোটের ‘সঙ্কল্পপত্র’ হিসেবেই দেখছে। রাজ্যে কর্মসংস্থানের আকাল নিয়ে মমতা সরকারকে বিঁধে শাহ বলেন, ‘যুবকদের জন্য বিজেপি ভাল খবর এনেছে। ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সকল শূন্য সরকারি পদে নিয়োগ হবে, যুব সমাজ চাকরি পাবেন ঘুষ না-দিয়ে।’ এমনকি যে সব সরকারি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে, সেগুলিও দু’মাসের মধ্যে ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের ক্ষোভকে হাতিয়ার করে শাহ প্রশ্ন তোলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কর্মীরা মমতাদিদির ১৫ বছরের সরকারকে অনেক সাহায্য করেছেন। কিন্তু যাঁরা সাহায্য করলেন, তাঁদের জন্য মমতাদিদি কী করলেন?’ তিনি মনে করিয়ে দেন যে সারা দেশে যখন অষ্টম বেতন কমিশনের প্রস্তুতি চলছে, তখন বাংলার কর্মীরা এখনও ষষ্ঠ কমিশনের সুবিধা পাচ্ছেন। এই বঞ্চনা ঘোচাতে তাঁর আশ্বাস, ‘রাজ্যে বিজেপির সরকার গড়ে দিন। ৪৫ দিনের মধ্যে আমরা সপ্তম বেতন কমিশনের বেতন দেব।” যারা নিয়োগ দুর্নীতির কারণে চাকরির বয়স হারিয়েছেন, তাঁদের জন্য পাঁচ বছরের বয়সসীমা ছাড়ের বড় ঘোষণা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

রাজনীতি ও দুর্নীতির প্রসঙ্গে শাহের সুর ছিল আগের চেয়েও চড়া। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘পরিবর্তন’ শব্দটির পাল্টা ব্যাখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘পরিবর্তনের অর্থ আমাদের কাছে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রিত্ব নয়। আমাদের কাছে পরিবর্তনের অর্থ হল অনুপ্রবেশকারীদের হাত থেকে পশ্চিমবঙ্গের মুক্তি, দুর্নীতি থেকে মুক্তি, সীমান্তকে সুরক্ষিত করা, মা-বোনেদের সুরক্ষিত করা, আইনের শাসন আনা।’ তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার পরিণাম নিয়ে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘এ বার যদি তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার ভুল আপনারা করেন, তা হলে এখানে ভাইপোর শাসন হবে, মমতাদিদির শাসন থাকবে না।’

অনুপ্রবেশ এবং সিএএ ইস্যুতেও মমতা সরকারকে আক্রমণ করতে ছাড়েননি শাহ। তাঁর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতার কারণেই শরণার্থীরা এখনও নাগরিকত্ব পাননি। শাহের আশ্বাস, “আমি সকল হিন্দু শরণার্থীকে বলতে এসেছি, চিন্তা করবেন না। উপরে বিজেপি সরকার রয়েছে। আপনার নাগরিকত্ব নিয়ে চিন্তা করার কোনও দরকার নেই।” রাজীব কুমারকে রাজ্যসভার প্রার্থী করা নিয়েও তোপ দাগেন তিনি। শাহের কথায়, ‘শিক্ষক নিয়োগ, এসএসসি, পুর নিয়োগ, গরু পাচার, রেশন, ১০০ দিনের কাজ, আবাস যোজনা প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে দুর্নীতিকে আড়াল করেছেন যে ডিজিপি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে এখান থেকে রাজ্যসভায় পাঠাচ্ছেন।’

এদিন রায়দিঘির পাশাপাশি আমতা, সন্দেশখালি, হাসন এবং ইসলামপুরেও বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’র উদ্বোধন হয়। রাজনাথ সিংহ, শিবরাজ সিংহ চৌহান এবং দেবেন্দ্র ফডণবীসের মতো হেভিওয়েট নেতারা রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচারের ঝড় তোলেন। তবে রায়দিঘির মঞ্চ থেকে শাহের দেওয়া অর্থনৈতিক ও কর্মসংস্থানের এই ‘মেগা প্যাকেজ’ ভোটমুখী বাংলার সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশ। ছবি সোশ্যাল মিডিয়া।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর