নয়া জামানা ডেস্ক : দীর্ঘ সাড়ে তিন দশকের চেনা ছক ভেঙে ভবানীপুরের ভোটের দিন সাতসকালে ময়দানে নামলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮৪ বা ১৯৮৯-এর স্মৃতি ফিরিয়ে বুধবার সকাল থেকেই বুথে বুথে ঘুরলেন তৃণমূল নেত্রী। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সক্রিয়তা আর বিরোধীদের চাপের মুখে মমতার এই ‘রোড শো’ রাজনৈতিক মহলে সাড়া ফেলে দিয়েছে। ভোট শেষে রীতি ভেঙে কালীঘাট মন্দিরে পুজোও দিলেন তিনি। একে বিরোধীরা ‘চাপের নতিস্বীকার’ বললেও, তৃণমূলের দাবি এটি নেত্রীর ‘মাস্টারস্ট্রোক’। সকাল ৮টা নাগাদ চেতলায় মমতার সাদা এসইউভি ঢুকতেই শোরগোল পড়ে যায়। আগের রাতে ফিরহাদ হাকিমের বাড়িতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর তল্লাশির খবর পেয়েই সেখানে ছোটেন তিনি। এরপর চক্রবেড়িয়ার পদ্মপুকুর রোডে বুথের বাইরে চেয়ার পেতে বসে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। ৭০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অসীম বসুকে ‘গৃহবন্দি’ করার অভিযোগ শুনেই মেজাজ হারান নেত্রী। সেখানে দাঁড়িয়েই ক্ষোভ উগরে দিয়ে মমতা বলেন, ‘আমি চাই, আমাদের দলও চায়, ভোটটা শান্তিতে হোক। মানুষের অধিকার প্রয়োগ করতে দেওয়া হোক। কিন্তু বিভিন্ন জায়গা থেকে কতগুলো অবজার্ভার নিয়ে আসা হয়েছে। অনেক পুলিশ অফিসার নিয়ে আসা হয়েছে। যারা বাংলাকে বোঝে না।’ বিগত কয়েক দশকে ভোটের দিন মমতাকে বিকেলে মিত্র ইনস্টিটিউশনে ভোট দেওয়া ছাড়া রাস্তায় দেখা যেত না। ১৯৯৯-এ ভবানীপুরের বস্তিতে গোলমাল বা ২০০৪-এ কসবায় বুথ জ্যামের খবর পেয়ে তিনি রাস্তায় বসেছিলেন ঠিকই, কিন্তু এ বারের তৎপরতা নজিরবিহীন। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ে মমতা অভিযোগ করেন, ‘গত রাতে অত্যাচার করেছে সারা বাংলা জুড়ে। পর্যবেক্ষকেরা থানায় গিয়ে গিয়ে চাপ সৃষ্টি করছেন। শুধু আমাদের দলকে নিশানা করা হচ্ছে।’ পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীও। তাঁর সংক্ষিপ্ত মন্তব্য, ‘ঠেলায় না-পড়লে বিড়াল গাছে ওঠে না।’ বিকেলে ভোট দিয়ে দুই আঙুলে জয়ের চিহ্ন দেখিয়ে মমতা দাবি করেন, ‘তৃণমূলই জিতবে। দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে জিতব।’ তবে কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিসক্রিয়তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘এটা কি অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ নির্বাচন? জীবনে এমন দেখিনি!’ দিনভর টানটান উত্তেজনার পর কালীঘাটে পুজো দিয়ে ঘরে ফেরেন নেত্রী, যা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এই প্রথম।
প্রান্তিকের হোটেল থেকে উদ্ধার একাধিক তাজা বোমা, দোলের পূর্বে শান্তিনিকেতনে নাশকতা ছড়ানোর ছক?