অঞ্জন শুকুল, নয়া জামানা, নদীয়া: সকালে মেয়ে ঘর না খোলায় মেয়েকে ডাকাডাকি শুরু করেন বাবা।পরে দরজা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখেন মেয়ের ঝুলন্ত দেহ। ঘটনাটি নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ এলাকার।পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মৃতার নাম প্রিয়া দাস, কল্যাণী আইটিআই কলেজের ছাত্রী। তার এক প্রেমিক রয়েছে যার বাড়ি কৃষ্ণগঞ্জেই, পরিবার সূত্রে খবর প্রিয়ার প্রেমিক ব্যাঙ্গালুরুতে কাজে গিয়েছে। শনিবার রাত্রে কি এমন ঘটনা ঘটলো যে প্রিয়া এমন একটা সিদ্ধান্ত নিল ? প্রশ্নের উত্তরে অশ্রুসিক্ত কন্ঠে প্রিয়ার বাবা রাজু দাস জানিয়েছেন সকালে দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে দেখি মেয়ের ঝুলন্ত দেহ, পাশে পড়ে রয়েছে মোবাইল। মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখে রাজুবাবু চিৎকার করে ওঠেন। পরে প্রতিবেশীরা ছুটে আসেন, তাড়াতাড়ি দড়ি কেটে প্রিয়ার ঝুলন্ত দেহ কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করে। প্রিয়ার ভাই প্রেম দাস বলেন দিদি যখন গলায় দড়ি দিয়েছিল তখন বিছানায় পড়েছিল তার মোবাইল এবং তার গলায় দড়ি দেওয়া থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত, প্রেমিক কৃষ্ণগঞ্জের বাসিন্দা গনা দেহেরীর সাথে ভিডিও কল চালু ছিল। তার আরও অভিযোগ, একটা ছবিকে ঘিরে দিদির প্রেমিক তাকে ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করছিল, যার জন্য দিদি গলায় দড়ি দিতে বাধ্য হয়েছে।প্রিয়ার মৃত্যুর সংবাদ শুনে প্রতিবেশীরা কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে ভিড় জমান ।এরপর কৃষ্ণগঞ্জ থানায় খবর দেওয়া হয়। কৃষ্ণগঞ্জ গ্রামীণ হাসপাতালে পৌঁছায় কৃষ্ণগঞ্জ থানার পুলিশ এবং মৃতদেহটি উদ্ধার করে নিয়ে আসে কৃষ্ণগঞ্জ থানায়। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতদেহটি ময়না তদন্তের জন্য শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে পাঠানো হবে। বর্তমানে পরিবারের নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মেয়ের ভিডিও কলের অভিযোগ তুলে রাজু দাস জানান, আমরা কৃষ্ণগঞ্জ থানায় ওই ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবো এবং যাতে সে যেন সাজা পায় তার ব্যবস্থা প্রশাসনকে করতে হবে।