নয়া জামানা, কলকাতা : ঘোষিত প্রতিশ্রুতি আর বাস্তবায়নের মাঝখানে এখন শুধুই আশঙ্কার প্রহর। এপ্রিলের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়েও ডিএ বৃদ্ধির সরকারি সিলমোহর না মেলায় রাজ্যের প্রশাসনিক মহলে এখন সংশয়ের মেঘ। গত ফেব্রুয়ারিতে পেশ করা অন্তর্বর্তী বাজেটে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য অতিরিক্ত চার শতাংশ মহার্ঘ ভাতা বা ডিএ দেওয়ার কথা ঘটা করে ঘোষণা করেছিল নবান্ন। ১ এপ্রিল থেকে এই বর্ধিত হারে ডিএ কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও মার্চ শেষ হতে চলল, অথচ অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি আজও অধরা। ফলে মে মাসের বেতন স্লিপে সেই মহার্ঘ ভাতার প্রতিফলন ঘটবে কি না, তা নিয়ে কার্যত দ্বিধাবিভক্ত সরকারি কর্মচারী মহল।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে বিধানসভায় অন্তর্বর্তী বাজেট পেশ করেছিলেন অর্থ প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। সেখানেই জানানো হয়েছিল, রাজ্য সরকারি কর্মীদের ডিএ চার শতাংশ বাড়িয়ে ২২ শতাংশ করা হচ্ছে। নিয়ম অনুযায়ী, বাজেটে ঘোষণার পর দ্রুত বিজ্ঞপ্তি জারি করে অর্থ দফতর। কিন্তু এ বার দু’মাস কেটে গেলেও নবান্নের নীরবতা নিয়ে সরব হয়েছে কর্মচারী সংগঠনগুলি। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে ২০১৬ থেকে ২০১৯ সালের বকেয়া ডিএ মেটানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মিটমাট প্রক্রিয়া চললেও নতুন চার শতাংশ বৃদ্ধির বিজ্ঞপ্তি না আসায় ক্ষোভ বাড়ছে।
সিপিএম সমর্থিত কো-অর্ডিনেশন কমিটির নেতা বিশ্বজিৎ গুপ্ত চৌধুরী সরাসরি তোপ দেগেছেন। তাঁর কথায়, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও বকেয়া ডিএ মেটাতে যে কৌশল রাজ্য সরকার অবলম্বন করেছে, তাতে আমাদের পাওনার তুলনায় কোথাও অর্ধেক কোথাও আবার অর্ধেকের থেকেও কম অর্থ দেওয়া হয়েছে। তাই নতুন ঘোষিত ডিএ নিয়ে যে সরকার গড়িমসি করবে সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত। তাই সরকারের পদক্ষেপ দেখে আমরাও আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করব।’
নবান্নের একটি অংশ অবশ্য দাবি করছে, বকেয়া ডিএ মেটানোর চাপ এবং ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রশাসনিক রদবদলের কারণে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে কিছুটা দেরি হচ্ছে। মে মাসের মাইনের সঙ্গে এই টাকা দেওয়ার কথা, তাই এপ্রিলের মধ্যে বিজ্ঞপ্তি এলেই লক্ষ্য পূরণ সম্ভব। তবে এই যুক্তিতে চিঁড়ে ভিজছে না বিরোধীদের। বিশেষ করে শিক্ষক এবং স্বশাসিত সংস্থার কর্মীদের বকেয়া ডিএ না মেলায় ক্ষোভ বাড়ছে শিক্ষা মহলেও। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডলের প্রশ্ন, ‘আমাদের ন্যায্য অধিকার আমাদের এখনও দেওয়া হয়নি। তার উপর নতুন করে ডিএ পাওয়ার আশা এই সরকারের কাছে করা কতটা বাস্তবসম্মত তা নিয়ে আমাদের মনে প্রশ্ন রয়েছে। আমরা সরকারের পদক্ষেপের উপর বিশেষ ভাবে নজর রাখছি।’
শাসক দল সমর্থিত সংগঠন অবশ্য সব আশঙ্কাই উড়িয়ে দিচ্ছে। তৃণমূল সমর্থিত সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের আহ্বায়ক প্রতাপ নায়েক বলছেন, ‘বিরোধী সরকারি কর্মচারী সংগঠনগুলি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করবে বলেই এই ধরনের কথা বলে যাচ্ছে। আজ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সরকারি কর্মচারীদের যে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তার সব ক’টি তিনি পালন করেছেন।’ তাঁর দাবি, বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়িয়ে ফের আদালতের যাওয়ার ফন্দি আঁটছে। যদিও সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ সাফ জানিয়ে দিয়েছে, বিজ্ঞপ্তি জারি না হওয়া পর্যন্ত নবান্নের সদিচ্ছাকে বিশ্বাস করার কোনও কারণ নেই। সব মিলিয়ে, ১ এপ্রিলের সকালে বিজ্ঞপ্তির আশায় চাতক পাখির মতো তাকিয়ে কয়েক লক্ষ সরকারি কর্মচারী।