তারিক আনোয়ার,নয়া জামানা, বীরভূম : বীরভূমের লাভপুরে মা ফুল্লরা মেলা প্রাঙ্গণে আয়োজিত জনসভা থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন এবং আসন্ন নির্বাচনে রেকর্ড ব্যবধানে জয়ের ডাক দিলেন। সভার শুরুতেই তিনি মঞ্চে উপস্থিত নেতৃত্ব ও বিপুল সংখ্যক মা-বোনেদের উপস্থিতির প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তাঁদের আশীর্বাদ থাকলে তৃণমূলের জয় নিশ্চিত।
নিজের বক্তব্যে তিনি রাজ্যের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে জানান, রাঙামাটি সেতু, তারাশঙ্কর সেতু নির্মাণ থেকে শুরু করে নতুন ফায়ার স্টেশন গড়ে তোলা—বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল অর্থ ব্যয় করে মানুষের জীবনযাত্রা সহজ করা হয়েছে। এছাড়া সতীপীঠ মা ফুল্লরা মন্দিরের সংস্কারে প্রায় ২.৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, রাজ্যের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রকল্প যেমন ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’, ‘স্বাস্থ্যসাথী’, ‘রূপশ্রী’, ‘কৃষক বন্ধু’—এসবের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। তিনি দাবি করেন, বর্তমানে রাজ্যে প্রায় ২ কোটি ৪০ লক্ষ মহিলা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের সুবিধা পাচ্ছেন, যা নারী ক্ষমতায়নের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। একইসঙ্গে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, দেশের অন্য কোনো বিজেপি-শাসিত রাজ্যে এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে দেখাতে পারলে তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেবেন।জনসভা থেকে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘোষিত নির্বাচনী ইস্তাহারের ১০টি শপথের মধ্যে কয়েকটি তুলে ধরেন। তিনি জানান, তৃণমূল সরকার ক্ষমতায় এলে আজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার চালু থাকবে, প্রতিটি ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়া হবে, ‘দুয়ারে চিকিৎসা’ কর্মসূচি চালু হবে, প্রবীণদের ভাতা দ্রুত দেওয়া হবে এবং আবাস প্রকল্পের মাধ্যমে প্রত্যেক যোগ্য পরিবারকে পাকা বাড়ি দেওয়া হবে।
বিজেপির বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি অভিযোগ করেন, কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের প্রাপ্য অর্থ আটকে রেখে উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করছে।একইসঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, রান্নার গ্যাস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বহুগুণ বেড়েছে, যার ফলে সাধারণ মানুষ চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন। তাঁর দাবি, একদিকে কেন্দ্র মানুষের উপর আর্থিক বোঝা চাপাচ্ছে, অন্যদিকে রাজ্য সরকার জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।লাভপুর বিধানসভার উন্নয়নের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, গত দুই বছরে ‘বাংলার বাড়ি’ প্রকল্পে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হয়েছেন এবং স্বাস্থ্যসাথী, যুব-সাথীসহ বিভিন্ন প্রকল্পে বিপুল সংখ্যক মানুষ সুবিধা পেয়েছেন। পথশ্রী-রাস্তাশ্রী প্রকল্পে বহু রাস্তা নির্মাণ ও সংস্কার হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।সভা থেকে বিজেপিকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “ওরা ধর্মের রাজনীতি করে, আমরা করি কর্মের রাজনীতি।” রামনবমীকে কেন্দ্র করে হিংসার অভিযোগ তুলে বিজেপির সমালোচনা করেন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা দেন। একইসঙ্গে কটাক্ষ করে বলেন, ভোটের আগে বিজেপি নেতাদের দেখা মিললেও পরে আর তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায় না।শেষে তিনি তৃণমূল প্রার্থী অভিজিৎ সিনহা (রানা)-কে ৬০ হাজারের বেশি ভোটে জেতানোর আহ্বান জানান এবং বলেন, এই নির্বাচন শুধু সরকার গঠনের নয়, বরং বিজেপিকে উপযুক্ত জবাব দেওয়ার লড়াই। তিনি আশ্বাস দেন, আগামী দিনে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে এবং মানুষের সমস্ত দাবি পূরণে তৃণমূল সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।