নয়া জামানা, নদিয়া : দু’দশক আগে কাজের সূত্রে অসমে গিয়েছিলেন নদিয়ার ধুবুলিয়ার বাসিন্দা সঞ্জু শেখ। কয়েক মাস আগে আচমকাই তাঁর হাতে পৌঁছায় এনআরসি-র নোটিস, যা ঘিরে শুরু হয় তীব্র উৎকণ্ঠা। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভারতের নির্বাচন কমিশন তাঁকে বৈধ ভোটার ও ভারতীয় নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় পুরো ঘটনাপ্রবাহে এসেছে বড় মোড়।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় রাজ্যজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এনআরসি নোটিস পাওয়ার পর থেকে মানসিক চাপে দিন কাটাচ্ছিলেন সঞ্জু। তিনি বলেন, কেন আমাকে নোটিশ পাঠানো হয়েছিল জানি না। আমরা ভারতীয়, সমস্ত বৈধ নথি রয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম না থাকার কোনও কারণ নেই।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ধুবুলিয়া থানার বেলপুকুর পঞ্চায়েতের সোনডাঙ্গা এলাকায় সঞ্জুর বাড়ি। গত বছরের অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে তাঁর সহ আরও একজনের নামে এনআরসি নোটিস আসে। প্রায় ১৬ বছর আগে তিনি একবার গুয়াহাটি গিয়ে অল্পদিন কাজ করেছিলেন। এক মাস পরই তিনি ফিরে আসেন এবং তারপর আর অসমে যাননি। কিন্তু গত বছরের ৩ অক্টোবর হঠাৎই তাঁর নামে নোটিস পাঠানো হয়, যেখানে ১০ দিনের মধ্যে পরিচয়পত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ ছিল। যদিও তিনি সেই নোটিসকে গুরুত্ব দেননি।এর কিছুদিন পর বাংলায় শুরু হয় ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া। নিয়ম মেনে সমস্ত নথি জমা দেন সঞ্জু। পরবর্তীতে দেখা যায়, তাঁর নাম খসড়া ও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এনআরসি নিয়ে আতঙ্ক কাটিয়ে এখন স্বস্তিতে রয়েছেন তিনি।
ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, এটি বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির অংশ। অন্যদিকে বিজেপির মতে, নির্বাচন কমিশন স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় যাচাই করেই ভোটার তালিকা তৈরি করেছে। সিপিএমও পরিযায়ী শ্রমিকদের হয়রানির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে।
দোল মিটলেই ভোটের নির্ঘণ্ট চান শুভেন্দু, ভোটার তালিকায় বদল নিয়ে জয় দেখছেন বিরোধী দলনেতা