নয়া জামানা, কলকাতা : লিফ্ট কেন নিয়ন্ত্রণের বাইরে? যান্ত্রিক ত্রুটি না কি একাধিক বোতাম টেপার বিপত্তি? আরজি কর হাসপাতালের মর্মান্তিক ঘটনার নেপথ্যে থাকা যাবতীয় কারণ খুঁজতে এবার ময়দানে নামল ফরেনসিক দল। শনিবার বেলার দিকে ট্রমা কেয়ার বিল্ডিংয়ের সেই অভিশপ্ত লিফ্ট থেকে নমুনা সংগ্রহ করলেন বিশেষজ্ঞরা। উদ্ধার হওয়া দেহের অবস্থান এবং বেসমেন্টের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেছে হোমিসাইড শাখা। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই গ্রেফতার হওয়া তিন লিফ্টম্যান ও দুই নিরাপত্তারক্ষীকে শনিবারই শিয়ালদহ আদালতে তোলা হয়। বিচারকরা ৬ দিনের পুলিশি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
তদন্তকারীদের আতশকাঁচের তলায় এখন ফরেনসিক রিপোর্ট। শনিবার ফরেনসিকের পদার্থবিদ্যা বিভাগের প্রতিনিধিরা লিফ্টের যান্ত্রিক গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন। লিফ্টটি ঠিক কত তলা থেকে নিচে নেমেছিল এবং কেন সেটি বেসমেন্টে গিয়ে আছড়ে পড়ল, তার উত্তর খুঁজছেন তাঁরা। সূত্রের খবর, রবিবার ঘটনাস্থলে যাবেন জীববিদ্যা বিভাগের আধিকারিকেরা। প্রাথমিক ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃত অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত, পা ও পাঁজর ভেঙে গিয়েছিল। শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ মারাত্মক আঘাতে ফেটে গিয়েছিল বলে জানা গিয়েছে।
দমদমের বাসিন্দা অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের তিন বছরের সন্তানের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন। শুক্রবার ভোররাতে ট্রমা কেয়ারের লিফ্টে সপরিবার ওঠার পর থেকেই শুরু হয় বিভীষিকা। অভিযোগ, লিফ্টটি আচমকা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়ে বেসমেন্টে নেমে আসে। সেখানে স্ত্রী ও সন্তান বেরোতে পারলেও দরজায় আটকে যান অরূপ। ঠিক সেই মুহূর্তে লিফ্টটি পুনরায় উপরে উঠতে শুরু করলে গুরুতর জখম হন তিনি। বেসমেন্টের বাইরের লোহার গ্রিল তালাবন্ধ থাকায় দীর্ঘক্ষণ তাঁকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।
মৃতের দিদির অভিযোগ, ‘হাতজোড় করে অনুরোধ করা সত্ত্বেও কেউ তালা ভাঙতে এগিয়ে আসেননি’। এমনকি অভিযোগ উঠেছে যে, চাবি পাওয়ার জন্য পূর্ত দফতরের অপেক্ষায় বসে থাকতে হয়েছিল উদ্ধারকারীদের। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের কাছেও সাহায্য মেলেনি বলে দাবি পরিবারের। প্রায় দেড় থেকে দু’ঘণ্টা পর উদ্ধারকাজ শুরু হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে। কেন জরুরি পরিস্থিতিতে তালা ভাঙার দ্রুত ব্যবস্থা করা হল না, তা নিয়ে বিতর্ক তুঙ্গে।
টালা থানার পুলিশ লিফ্টম্যান মিলনকুমার দাস, বিশ্বনাথ দাস, মানসকুমার গুহ এবং নিরাপত্তারক্ষী আশরাফুল রহমান ও শুভদীপ দাসকে গ্রেফতার করেছে। অনিচ্ছাকৃত মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে। আরজি কর কর্তৃপক্ষও অভ্যন্তরীণ তদন্ত করে স্বাস্থ্য ভবনে রিপোর্ট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সরকারি হাসপাতালে লিফ্টম্যানের অনুপস্থিতি এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবই কি এই মৃত্যুর প্রধান কারণ? উত্তর খুঁজছে লালবাজারের গোয়েন্দা বিভাগ।