নয়া জামানা ডেস্ক : বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজি-র মতো শীর্ষ আধিকারিকদের ‘রাতারাতি’ সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বেনজির ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কমিশনের এই পদক্ষেপকে ‘অগণতান্ত্রিক’ ও ‘স্বেচ্ছাচারী’ আখ্যা দিয়ে সোমবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কড়া ভাষায় চিঠি পাঠিয়েছেন তিনি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রীর এই চিঠিতে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোয় আঘাতের অভিযোগ আনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, কোনো আধিকারিককে সরাতে হলে সাধারণত রাজ্য সরকারের কাছে তিনটি নামের প্যানেল চাওয়া হয়। কিন্তু এ ক্ষেত্রে সেই প্রশাসনিক সৌজন্য বা নিয়ম মানা হয়নি। রাজ্যের সঙ্গে কোনো আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে সরানো হয়েছে মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী ও স্বরাষ্ট্রসচিব জগদীশ প্রসাদ মিনাকে। মুখ্যসচিবের পদে বসানো হয়েছে দুষ্মন্ত নারিয়ালাকে। স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের নতুন সচিব হয়েছেন সংঘমিত্রা ঘোষ। পুলিশ প্রশাসনেও বদলের ঢেউ আছড়ে পড়েছে। রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডের বদলে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সিদ্ধিনাথ গুপ্তাকে। কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকারকে সরিয়ে আনা হয়েছে অজয় নন্দাকে। এমনকি এডিজি (আইনশৃঙ্খলা) পদ থেকে বিনীত গোয়েলকে সরিয়ে অজয় মুকুন্দ রানাডেকে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। মুখ্যমন্ত্রী চিঠিতে স্পষ্ট লিখেছেন, ‘কমিশনের এই ধরণের একতরফা পদক্ষেপ সমবায় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার মর্মমূলে আঘাত করছে। এটি একটি নিরপেক্ষ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিশ্বাসযোগ্যতাকেও প্রশ্নচিহ্নের মুখে ফেলে দেয়।’ এদিন রান্নার গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে কলেজ স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত আয়োজিত মিছিলের মঞ্চ থেকেও সুর চড়ান তিনি। মমতার তোপ, ‘বাঙালি মহিলা চিফ সেক্রেটারিকে বদলে দিয়েছেন। একজন মহিলাকে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে বার করে দিলেন।’ নির্বাচন কমিশনের এমন ‘নজিরবিহীন’ পদক্ষেপে স্তম্ভিত রাজনৈতিক মহলের একাংশও। মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর ধারা অনুযায়ী কমিশনের হাতে ক্ষমতা থাকলেও, ব্যবহারের ক্ষেত্রে রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ করাই দীর্ঘদিনের রীতি। বিনা কারণে এবং কোনো গাফিলতির অভিযোগ ছাড়াই যেভাবে শীর্ষস্তরে রদবদল করা হয়েছে, তাকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ সিদ্ধান্ত বলে দাবি করেছেন তিনি। তবে চাপের মুখে নতিস্বীকার না করে মমতার পাল্টা হুঁশিয়ারি, ‘যাঁকেই পাঠান, তাঁরা আমাদের হয়ে কাজ করবেন। মানুষের হয়ে কাজ করবেন।’