ব্রেকিং
  • Home /
  • কলকাতা /
  • শেষমেষ পঞ্চম দিনে ধর্না তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘লড়াই চলবে বুথে বুথে’, বার্তা অভিষেকের

শেষমেষ পঞ্চম দিনে ধর্না তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘লড়াই চলবে বুথে বুথে’, বার্তা অভিষেকের

নয়া জামানা ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত বিচারালয়ের হস্তক্ষেপে স্বস্তি ফিরল ঘাসফুল শিবিরে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে নৈতিক জয় হিসেবে তুলে ধরে পাঁচ দিনের মাথায় ধর্মতলার ধর্না কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে মঞ্চ থেকেই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর....

শেষমেষ পঞ্চম দিনে ধর্না তুললেন মুখ্যমন্ত্রী, ‘লড়াই চলবে বুথে বুথে’, বার্তা অভিষেকের

নয়া জামানা ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত বিচারালয়ের হস্তক্ষেপে স্বস্তি ফিরল ঘাসফুল শিবিরে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে নৈতিক....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন


নয়া জামানা ডেস্ক : শেষ পর্যন্ত বিচারালয়ের হস্তক্ষেপে স্বস্তি ফিরল ঘাসফুল শিবিরে। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে নৈতিক জয় হিসেবে তুলে ধরে পাঁচ দিনের মাথায় ধর্মতলার ধর্না কর্মসূচি প্রত্যাহার করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মঙ্গলবার বিকেলে মঞ্চ থেকেই আন্দোলনের সমাপ্তি ঘোষণা করেন তৃণমূলনেত্রী। তাঁর পাশেই দাঁড়িয়ে দলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, আদালতের এই নির্দেশ আসলে বাংলার মানুষের জয়। তবে ধর্না তুললেও লড়াই যে থামছে না, তা স্পষ্ট করে দিয়েছেন মমতা। বরং আগামী দিনে ভোটার তালিকা নিয়ে কোনও কারচুপি হলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দলের অন্দরে ‘টাকার খেলা’ নিয়ে সতীর্থদের কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ হিসেবে বিঁধে ক্যানভাসে ছবি এঁকে অভিনব প্রতিবাদও জানান তিনি। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়ার প্রতিবাদে শুরু হওয়া এই আন্দোলন এখন বুথ স্তরে নিয়ে যাওয়ার ডাক দিয়েছে তৃণমূল।

মঙ্গলবার বিকেলে ধর্মতলার মঞ্চে তখন টানটান উত্তেজনা। পাঁচ দিন ধরে চলা এই ধর্না কি দীর্ঘায়িত হবে? এই জল্পনার অবসান ঘটান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই। সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণকে ঢাল করে তিনি বলেন, ‘আমরা আশা রাখি। সুপ্রিম কোর্ট বিচারের সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠান। কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতির উপরেও আমাদের ভরসা আছে। আমাদের আবেদন থাকবে, প্রকৃত ভোটারদের নাম যেন বাদ না যায়। নির্বাচন কমিশন যে বিভ্রান্তি তৈরি করছিল, সেটাও আদালত বলেছে।’ মানুষের মনে সাহস জুগিয়ে নেত্রীর বার্তা, ‘চিন্তা না করে, আত্মহননের পথ বেছে না নিয়ে, মনকে দুর্বল না করে আপিলেট অথরিটির কাছে যাবেন। সব জায়গা উন্মুক্ত আছে।’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরামর্শ মেনেই মূলত এদিন ধর্না তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন মমতা। সেনাপতির আর্জি ছিল, সামনে দীর্ঘ নির্বাচনী লড়াই, তাই নেত্রীকে সুস্থ থাকতে হবে। সেই প্রস্তাব মেনে নিয়ে মমতা উপস্থিত কর্মীদের কাছে জানতে চান, ‘অভিষেকের যে প্রস্তাব, আমরা কি ধর্নাটি আজকের মতো তুলে নিতে পারি?’ সমস্বরে ‘হ্যাঁ’ ধ্বনি আসতেই যবনিকা পড়ে পাঁচ দিনের আন্দোলনের। তবে এই আন্দোলনের মেজাজ ছিল অন্যরকম। মঞ্চে বসেই মমতা এদিন তুলি ধরেন। নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ আখ্যা দিয়ে একটি প্রতীকী ছবি আঁকেন তিনি। পাশে দুটি মালা এঁকে তিনি বোঝাতে চান, ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দিয়ে ভোটারদের রাজনৈতিক ভাবে ‘ভ্যানিশ’ করার চেষ্টা হচ্ছে।

নির্বাচন কমিশন ও বিজেপির আঁতাঁত নিয়ে বরাবরই সরব তৃণমূল। এদিনও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সিঙ্গুর আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে মমতা বলেন, ‘সিঙ্গুরের সময়ে যে লোকটা জোর করে চাষিদের জমি অধিগ্রহণ করেছিলেন, সেই লোকটাকেই আজ নির্বাচন কমিশন এখানে ডেপুটি ইলেকশন কমিশন না কী যেন একটা পোস্ট দিয়ে পাঠিয়েছে।’ ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি হবে দাবি করে তিনি মনে করিয়ে দেন, এই ধর্মতলা থেকেই এক সময় তৃণমূলের জয়যাত্রা শুরু হয়েছিল। এদিনও সেই মা কালীর আশীর্বাদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘মায়ের আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হলেন কেউ কেউ। বুঝতে পারছেন, মা-ও কিন্তু ভালবাসেন মানবিকতা, মনুষ্যত্ব এবং সকলকে নিয়ে একসঙ্গে বাস করা।’

মমতার বক্তব্যের বড় অংশ জুড়ে ছিল কৃষি ও সাধারণ মানুষের অধিকারের কথা। আলু চাষিদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, সরকার ন্যায্যমূল্যে আলু কিনবে এবং সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঠিক এই প্রসঙ্গেই বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করেন মমতা। আমিষ খাবার নিয়ে বিজেপির নিষেধাজ্ঞার মানসিকতাকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘বিহারের যে উপমুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন মাছ-মাংস খাওয়া যাবে না, তিনি এখানে এসে বসে আছেন। এরা পদার্থ, না অপদার্থ? বাংলাকে গালাগালি দেয়।’

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশকে তৃণমূলের লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেন। তিনি বলেন, ‘গায়ের জোরে ভোটারদের নাম কেটে দেওয়া হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট ইসিকে ভর্ৎসনা করেছে। যাদের নাম বাদ যাচ্ছে, তারা যাতে আবার আবেদন করার সুযোগ পায়— সেই জন্য প্রাক্তন বিচারপতিদের আপিলেট ট্রাইবুনাল বেঞ্চ খোলার জন্য হাই কোর্টকে নির্দেশ দিয়েছে।’ কমিশনের ওপর আদালতের ‘অনাস্থা’র কথা উল্লেখ করে অভিষেক জানান, ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই লড়াই চলবে এবং বুথ স্তরে বিজেপিকে গণতান্ত্রিকভাবে দেউলিয়া করতে হবে। তাঁর কথায়, ‘নির্বাচন কমিশনের উপর দেশের সর্বোচ্চ আদালতও ভরসা রাখেনি। সেই জন্য নির্বাচন কমিশনকে এক তরফা সিদ্ধান্ত নেওয়ার স্বাধীনতা সুপ্রিম কোর্টও দেয়নি।’

তবে দিনের শেষে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর ছিল মমতার ‘টাকার খেলা’ নিয়ে সতর্কতা। দলের নেতাদের সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘নজর রাখতে হবে। কখনও কখনও কাউকে কাউকে টাকা দিয়ে কিনে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। মনে রাখবেন রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব বলেছিলেন, ‘টাকা মাটি-মাটি টাকা’। টাকা আসে আবার চলে যায়।’ ভোটের আগে বিধায়ক বা মন্ত্রীদের দলবদল বা প্রলোভনের ফাঁদে পা দেওয়া রুখতেই যে এই কড়া বার্তা, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে চর্চা শুরু হয়েছে। নেত্রীর হুঁশিয়ারি, ‘আমাদেরও যদি কাউকে কেনার চেষ্টা করে, আমরা কিন্তু নজর রাখব।’

ধর্না শেষে রাজভবনে গিয়ে বিদায়ী রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও বোসকে সরিয়ে দেওয়াকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে বর্ণনা করেন তিনি। সব মিলিয়ে, ধর্মতলার ধর্না উঠলেও ভোটার তালিকা এবং কেন্দ্রীয় বঞ্চনার ইস্যুকে হাতিয়ার করে তৃণমূল যে পুরোদমে ভোটের ময়দানে নেমে পড়েছে , তা এখন দিনের আলোর মতন স্পষ্ট ।


 

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর