নয়া জামানা, নদীয়া : আবারও এক নির্বাচন শিয়রে, আর ভোটের বাদ্যি বাজার আগেই বঙ্গ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে ‘ঘরওয়াপসি’র চোরা স্রোত। শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরবাড়ির রুদ্ধদ্বার বৈঠক ঘিরে সেই জল্পনা উসকে দিলেন রানাঘাট দক্ষিণের তৃণমূল বিধায়ক মুকুটমণি অধিকারী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুরের খাসতালুকে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করলেন মুকুটমণি। এই একান্ত সাক্ষাৎকার ঘিরেই এখন সরগরম রাজ্য রাজনীতি। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি আবার দলবদল করতে চলেছেন এই মতুয়া নেতা? শনিবার সন্ধ্যায় ঠাকুরবাড়িতে শান্তনুর সঙ্গে মুকুটমণির বৈঠক চলে প্রায় আধ ঘণ্টা। বনগাঁর সাংসদের নীচের তলার দফতরে সেই আলোচনা ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শোরগোল শুরু হয়েছে। যদিও বৈঠকের পর মুকুটমণি একে ‘সৌজন্য সাক্ষাৎ’ বলেই দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, ‘আমি নতুন গাড়ি কিনেছি, তাই বড়মাকে পুজো দিতে এসেছিলাম। সেই সূত্রেই শান্তনুদার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়।’ শুধু শান্তনু নন, মুকুটমণি দাবি করেন তিনি তৃণমূল সাংসদ মমতাবালা ঠাকুর এবং বিধায়ক মধুপর্ণা ঠাকুরের সঙ্গেও দেখা করেছেন। তবে এই দাবি নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। মধুপর্ণা ঠাকুর সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘মুকুটমণির সঙ্গে আমার দেখাই হয়নি। উনি কেন এমন দাবি করছেন, জানি না।’ এই পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে জল্পনা আরও দানা বেঁধেছে। শান্তনু ঠাকুরও বিষয়টিকে লঘু করে দেখাতে চেয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, ‘ঠাকুরবাড়ি সকলের জন্য খোলা। কেউ এলে আমি ফেরাতে পারি না। এখানে রাজনীতির কোনও গন্ধ নেই।’ তিনি জানান, নতুন গাড়ির পুজো দিতে এসে মুকুটমণি কেবল সৌজন্য দেখিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু বিজেপি শিবিরের অন্দরের খবর বলছে অন্য কথা। সূত্রের খবর, মুকুটমণি নিজেই বিজেপি-তে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন শান্তনুর কাছে। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রানাঘাট দক্ষিণ আসনে পদ্ম শিবিরের প্রার্থী হওয়ার বাসনাও জানিয়েছেন তিনি। তবে মুকুটমণির জন্য বিজেপির দরজা কতটা খোলা, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির বিধায়ক পদ ছেড়ে তিনি তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। রানাঘাট লোকসভা কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের হয়ে লড়ে হারেন জগন্নাথ সরকারের কাছে। পরে উপনির্বাচনে রানাঘাট দক্ষিণ থেকে জিতে বিধায়ক হন। এই ঘন ঘন রঙ বদল ভালো চোখে দেখছেন না রানাঘাটের বিজেপি নেতা-কর্মীরা। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন নীচুতলার কর্মীরা। তাঁদের প্রশ্ন, কঠিন সময়ে দল ছেড়ে যাওয়া নেতাকে কেন ফেরানো হবে? দলের একাংশের দাবি, মুকুটমণি ফিরলেও তাঁর টিকিট পাওয়া প্রায় অসম্ভব। সব মিলিয়ে মুকুটমণির এই ‘ঠাকুরবাড়ি যাত্রা’ ঘিরে এখন টানটান উত্তেজনা তুঙ্গে।