নয়া জামানা, বীরভূম: ফের চুরির ঘটনা ঘটল বোলপুর শহরে। রবিবার গভীর রাতে শান্তিনিকেতন থানার লায়েকবাজার রূপান্তরিত বুনিয়াদি বিদ্যালয়ে দুঃসাহসিক এই চুরির ঘটনাটি ঘটে।
স্কুল সূত্রে জানা গিয়েছে, অজ্ঞাত পরিচয় দুষ্কৃতীরা বিদ্যালয়ের গ্রিল বাঁকিয়ে ভিতরে ঢোকে। এরপর তারা রান্নাঘরের দরজার ছিটকিনি ভেঙে মিড – ডে মিলের জন্য ব্যবহৃত বিভিন্ন সামগ্রী চুরি করে নিয়ে যায়। চুরি যাওয়া সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে গ্যাস সিলিন্ডার, কড়াই, ঢাকনা, ডেচকি, বালতি, প্রেসার কুকারের ঢাকনা, চায়ের সরঞ্জাম ও কিছু থালা।বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, স্কুলের প্রবেশদ্বারে সঠিক গেটের ব্যবস্থা নেই এবং সীমানা প্রাচীরও খুবই নিচু। সেই সুযোগেই দুষ্কৃতীরা সহজে স্কুলে ঢুকে পড়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিরাপত্তার অভাবের কারণে স্কুল প্রাঙ্গণে প্রায়ই নেশাজাতীয় দ্রব্যের অবশিষ্ট পড়ে থাকতে দেখা যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রঞ্জিত গড়াই জানান, সোমবার সকালে প্রায় দশটা পঁচিশ নাগাদ স্কুলে এসে দেখি রান্নার দিদিরা তালা খুলতে না পেরে বসে আছেন। তাঁরা আমাকে জানালে তালা খুলতে গিয়ে দেখি মূল গেটের গ্রিল বাঁকানো। রান্নাঘরের দরজার ছিটকিনি ভাঙা অবস্থায় ছিল। এরপর স্থানীয় বাসিন্দা ও অন্যান্য শিক্ষককে ডেকে তালা ভেঙে ভিতরে ঢুকে দেখি রান্নার বেশিরভাগ সামগ্রী নেই। বড় ডেকচি ও কড়াই ছাড়া বাকি বাসনপত্র গ্রিল বাঁকিয়ে নিয়ে পালিয়েছে দুষ্কৃতীরা। স্কুলের প্রবেশদ্বারে মূল গেট না থাকায় সমস্যা হয়। অনেকেই স্কুলের পাশে শৌচকর্ম করে। যার ফলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। এরকম দুষ্কৃতিদের উপদ্রব বাড়লে কিভাবে স্কুল চালাব ? এর আগেও স্কুলের জানালা দিয়ে কিছু বাসন চুরির ঘটনা ঘটেছে। স্কুলের প্রবেশদ্বারে গেট ও সীমানা প্রাচীর উঁচু করলেই সমাধান মিলতে পারে বলেও জানান তিনি। এই চুরির ঘটনার প্রেক্ষিতে শান্তিনিকেতন থানায় স্কুলের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।