নয়া জামানা ডেস্ক : সিভি আনন্দ বোসের আকস্মিক ইস্তফার পর পশ্চিমবঙ্গের নতুন রাজ্যপাল হিসেবে দায়িত্ব নিচ্ছেন আরএন রবি। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রের এই ঘোষণার পর থেকেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিশেষ করে তামিলনাড়ুর শাসকদল ডিএমকের তরফে রবিকে নিয়ে যে আক্রমণ শাণানো হয়েছে, তাতে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার ডিএমকের রাজ্যসভার সাংসদ পি উইলসন সমাজমাধ্যমে সরাসরি তোপ দেগে লিখেছেন, ‘উনি যেখানেই যান, সেখানেই সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো এবং সংসদীয় গণতন্ত্রের মৃত্যু হয়।’ বাংলার শাসকদল তৃণমূল এবং রাজ্যবাসীর প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আরও যোগ করেন, ‘পশ্চিমবঙ্গের মানুষ এবং তৃণমূলে থাকা ভাল বন্ধুদের জন্য আমার খারাপ লাগছে।’
সদ্য প্রাক্তন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোসের বিদায়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই তামিলনাড়ু থেকে রবিকে বাংলায় পাঠানো কেন্দ্রের এক গভীর চাল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সাড়ে চার বছর ধরে তামিলনাড়ুর রাজ্যপাল পদে থাকাকালীন এমকে স্ট্যালিন সরকারের সঙ্গে রবির সংঘাত ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা। ২০২৩ সাল থেকে রাজভবনের চা-চক্র বয়কট করে আসছে ডিএমকে সরকার। এমনকি গত বছর স্বাধীনতা দিবসেও রাজ্যপালের আমন্ত্রণে সাড়া দেননি স্ট্যালিন। সংঘাত এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিল যে, খোদ রাষ্ট্রপতির কাছে রবির বরখাস্তের দাবি জানিয়েছিল তামিলনাড়ু সরকার। চলতি বছরের শুরুতে বিধানসভায় সরকারের লিখে দেওয়া ভাষণ না পাঠ করে অধিবেশন ছাড়ার অভিযোগও উঠেছিল রবির বিরুদ্ধে।
এই প্রেক্ষাপটে ডিএমকে সাংসদ পি উইলসনের দাবি, তামিলনাড়ু নিয়ে বিজেপির যে মনোভাব, তার প্রতিফলন ঘটত রবির কার্যকলাপে। উপহাসের সুরে তিনি বলেন, ‘এই ভেবে খারাপ লাগছে যে, আসন্ন নির্বাচনে ডিএমকে এক জন তারকা প্রচারক (রবি)-কে হারাল।’ বাংলার ভোটের আগে এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। রবির কর্মজীবনও বেশ বর্ণময়। পটনায় জন্ম নেওয়া রবি ১৯৭৬ ব্যাচের আইপিএস অফিসার। সিবিআই এবং আইবি-র মতো কেন্দ্রীয় সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি। জম্মু-কাশ্মীর থেকে উত্তর-পূর্ব ভারত একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় বিদ্রোহ দমনে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য।
২০১৫ সালে নাগা ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের প্রধান কাণ্ডারি মনে করা হয় তাঁকে। তবে নাগা চুক্তির সময় তাঁর বিরুদ্ধে সেনাকে ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছিল। ২০১৯ সালে নাগাল্যান্ডের রাজ্যপাল হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক ইনিংস শুরু হয়। এরপর মেঘালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব সামলে ২০২১ সালে তামিলনাড়ুর দায়িত্ব নেন। এবার তাঁর গন্তব্য তিলোত্তমা। গোয়েন্দা কর্তা থেকে দুঁদে প্রশাসক হিসেবে পরিচিত রবির সঙ্গে বাংলার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকারের রসায়ন কেমন হয়, এখন সেটাই দেখার। তবে নিয়োগের প্রথম দিনেই ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শরিক দলের এই আক্রমণ বাংলার রাজনৈতিক লড়াইকে অন্য মাত্রা দিয়ে দিল।