নয়া জামানা, কলকাতা : এ বার নাশকতার হুমকির নিশানায় খাস ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়াল। শুক্রবার দুপুরে ইমেলের মাধ্যমে বিস্ফোরণের হুঁশিয়ারি আসতেই তীব্র চাঞ্চল্য ছড়ায় তিলোত্তমায়। তড়িঘড়ি হেস্টিংস থানায় অভিযোগ দায়ের করেন মেমোরিয়াল কর্তৃপক্ষ। খবর পেয়েই লালবাজার থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বম্ব স্কোয়াড। কড়া পুলিশি পাহারায় চত্বর খালি করে শুরু হয় চিরুনিতল্লাশি।
গত কয়েক দিন ধরেই কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে দফায় দফায় বোমাতঙ্ক ছড়াচ্ছে। কখনও নগরদায়রা আদালত, কখনও আবার রুবি মোড় সংলগ্ন পাসপোর্ট অফিস— সর্বত্রই উড়ো মেইলে ত্রাহি ত্রাহি রব। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই শুক্রবার হানা দিল নতুন আতঙ্ক। মেমোরিয়াল সূত্রের খবর, ইমেলে দাবি করা হয়েছে চত্বরে আরডিএক্স রাখা আছে, যা দিয়ে উড়িয়ে দেওয়া হবে গোটা স্থাপত্য। পুলিশ ও বম্ব স্কোয়াড মেটাল ডিটেক্টর এবং স্নিফার ডগ নিয়ে প্রতিটি কোণ খতিয়ে দেখলেও এখনও পর্যন্ত সন্দেহজনক কিছু মেলেনি।
প্রতি দিন হাজার হাজার পর্যটকের ভিড় জমে এই সংগ্রহশালায়। দেশি-বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তার খাতিরেই তড়িঘড়ি এলাকা ফাঁকা করার সিদ্ধান্ত নেয় প্রশাসন। যদিও বারবার এই ধরনের হুমকি আসায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ। বিঘ্নিত হচ্ছে পরিষেবা, বাড়ছে ভোগান্তি। লালবাজারের গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, ‘সব কটি হুমকিবার্তাকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ঝুঁকি না নিয়ে নির্দিষ্ট পদ্ধতি মেনে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।’
উত্তেজনা আরও বেড়েছে কারণ, সম্প্রতি গুজরাতের বেশ কিছু জায়গায় বোমাতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগে উত্তর ২৪ পরগনার গোপালনগর থেকে সৌরভ বিশ্বাস নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে সে রাজ্যের পুলিশ। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই চক্রের শিকড়ে পৌঁছনোর চেষ্টা করছে কলকাতা পুলিশের এসটিএফ। কিন্তু তদন্তের মাঝেই ভিক্টোরিয়ায় এই হুমকিবার্তা গোয়েন্দাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। এখনও পর্যন্ত সব কটি হুমকিই ভুয়ো প্রমাণিত হলেও, ইমেলের উৎস খুঁজতে মরিয়া পুলিশ।