• Home /
  • Uncategorized /
  • মহিষাদল রাজ বাড়ি,পর্যটকদের জন্য নতুন দিগন্ত

মহিষাদল রাজ বাড়ি,পর্যটকদের জন্য নতুন দিগন্ত

রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে মহিষাদল রাজবাড়ি একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বাংলা হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি একাধিক ধারাবাহিকের শ্যুটিংও হয়েছে। বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীর শ্যুটিং এর জন্য এসেছেন এই রাজ বাড়িতে। তাদের মধ্যে রয়েছেন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, উৎপল দত্ত, জিৎ, তাপস পাল, দেব,....

মহিষাদল রাজ বাড়ি,পর্যটকদের জন্য নতুন দিগন্ত

রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে মহিষাদল রাজবাড়ি একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বাংলা হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি একাধিক ধারাবাহিকের....

Facebook
Twitter
LinkedIn
Email
WhatsApp
X
Threads
Telegram

আরও পড়ুন

Picture of সুপর্ণা ভট্টাচার্য

সুপর্ণা ভট্টাচার্য

নয়া জামানা

Picture of সুপর্ণা ভট্টাচার্য

সুপর্ণা ভট্টাচার্য

নয়া জামানা

রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে মহিষাদল রাজবাড়ি একটি বিশেষ জায়গা করে নিয়েছে। বাংলা হিন্দি সিনেমার পাশাপাশি একাধিক ধারাবাহিকের শ্যুটিংও হয়েছে। বহু অভিনেতা-অভিনেত্রীর শ্যুটিং এর জন্য এসেছেন এই রাজ বাড়িতে। তাদের মধ্যে রয়েছেন উত্তম কুমার, সুচিত্রা সেন, উৎপল দত্ত, জিৎ, তাপস পাল, দেব, শুভশ্রী থেকে আরো অনেকে। মহিষাদল রাজবাড়িতে দত্তা, বসু পরিবার থেকে শুরু করে খোকা ৪২০ এর মতন সিনেমার ও শ্যুটিং হয়েছে।বহু বাংলা ও হিন্দি ছায়াছবি ও ধারাবাহিক শ্যুটিং ডেস্টিনেশন হিসেবে এই জায়গাটি বেছে নিয়েছে। রাজ পরিবারের বর্তমান সদস্য সৌর্য প্রসাদ গর্গ জানান সারা বছর ধরে বাংলা ও হিন্দি বহু ছায়াছবির শ্যুটিং সেখানে হতেই থাকে। পশ্চিমবঙ্গের পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় অবস্থিত এই মহিষাদল রাজবাড়ি একটি ঐতিহাসিক স্থান যা তার সমৃদ্ধ রাজকীয় ঐতিহ্য স্থাপত্যের জন্য পরিচিত। এখানে দুটি প্রধান প্রাসাদ রয়েছে। একটি পুরনো এবং অন্যটি নতুন। দুটি ভিন্ন স্থাপত্যশৈলীর নিদর্শন। পুরোনো প্রাসাদ টি ১৮৪০ সালে নির্মিত হয়েছিল এবং নতুন ১৯৩৫ সালে তৈরি হয়েছিল। এই রাজবাড়ীটি একসময় উপনিবেশিক ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ জমিদার বাড়ি ছিল।

 

 

 

 

এই রাজবাড়ীর ইতিহাস যেন রূপকথার রংমহল। পরতে পরতে ঘটনার ঘনঘটা। সিংহ দুয়ার প্যালেস, ফুলবাগ প্যালেস, সামার প্যালেস থেকে সাহেবদিঘী, আম্র কানন, মিউজিয়াম সবই রাজবাড়ীর অতীত গরিমার সাক্ষ্য বহন করে নিয়ে চলেছে। মহিষাদল রাজবাড়ির সাথে স্থানীয় মানুষের সম্পর্ক দুটি বিষয়কে কেন্দ্র করে। এক, ঐতিহাসিক রথযাত্রা এবং দ্বিতীয় টি হল রাজবাড়ীর দুর্গাপুজো। বিভিন্ন জায়গা থেকে আসা দর্শনার্থীদের জন্যও এই পুজোর অবারিত দ্বার। রাজবাড়ী ঠাকুরদালানে প্রতিমা গড়েন শিল্পী। উল্টো রথে কাঠামোয় পরে খড়ের প্রলেপ। রাজবাড়ির ভেঙে পড়া সিংহদুয়ার প্যালেসের কাছে স্থায়ী নাট মন্দির আছে। আগে এখানে পুজোর সময় রাজ পরিবারের সদস্যরা থিয়েটার, উচ্চাঙ্গ সংগীতানুষ্ঠানে দর্শক হিসাবে থাকতেন। রাজ পরিবারের মহিলারাও উপভোগ করতেন অনুষ্ঠান।

পূজোর এই সময় অন্দরমহলের সঙ্গে বারমহলের দূরত্ব কমে যেত। রাজ পরিবারের প্রতিমা শিল্পী গোপাল চন্দ্র ভূঁইয়া। তার পূর্বসূরীরাও রাজবাড়ির প্রতিমা তৈরীর সৌভাগ্য বহন করেছেন ৫০ বছর হয়ে গেল। গোপাল চন্দ্র প্রতিমা তৈরীর উত্তরাধিকার পেয়েছিলেন বাবা বিখ্যাত প্রতিমা শিল্পী রামচন্দ্রের কাছ থেকে। প্রায় আড়াইশো বছর আগে রানী জানকীর আমলে রাজবাড়িতে দুর্গাপূজা শুরু হয়। প্রতিপদে পূজোর শুরু । একসময় মহাষ্টমীতে কামান দাগা হতো। কামানের গর্জন শুনে আশপাশের লোকজন বুঝতে পারতেন রাজবাড়ীর সন্ধিপূজো শুরু হল। কালের প্রবাহে কামান দাগা এখন বন্ধ। দশমীর দিনেই প্রতিমার বিসর্জন হয় রাজবাড়ীর চত্বরে। কর্মসূত্রে নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা রাজবাড়ির সদস্যরা পুজো উপলক্ষে হাজির হন রাজবাড়ীতে। ধুমধাম করে চলে পূজোর আয়োজন।

যাত্রা থেকে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, ভোগ বিতরণ, নিরঞ্জন এর শোভাযাত্রা সবকিছুতেই থাকে রাজকীয় ছোঁয়া। তবে বর্তমানে আগের তুলনায় জৌলুস কিছুটা ফিকে হয়েছে। তবে রাজবাড়ীর পূজোর ঐতিহ্যের টানে ভিড় করেন অনেকে । তাদের কথা ভেবে এখন রাজবাড়ীতে রয়েছে থাকার ব্যবস্থা। যার নাম “স্টে উইথ রয়ালস”।

পুজো দেখার পাশাপাশি বাহারি আলো, মিউজিয়ামে রাজাদের শিকারে নিদর্শন থেকে নানা বাদ্যযন্ত্র, ব্যবহার্য জিনিসপত্র দেখার বাড়তি সুযোগ পর্যটকদের কাছে উপরি পাওনাও বটে। সপ্তাহান্তে ভ্রমণের জন্য মহিষাদল রাজবাড়ি লিস্টে রাখা যেতেই পারে । কলকাতা থেকে আড়াই ঘন্টার মধ্যে মহিষাদল রাজ বাড়ি পৌঁছে যাওয়া যায়। রুট হল : কলকাতা- কোনা এক্সপ্রেসওয়ে – ধুলাগড়, বাগনান এবং কোলাঘাট হয়ে জাতীয় সড়ক ১১৬, তারপর বাঁদিকে ঘুরে এবং হলদিয়া রোড ধরে নন্দকুমার। সেখান থেকে মূল সড়কের ১০ কিলোমিটার ভেতরে এই গন্তব্যস্থল। মহিষাদল এর প্রথম রাজা ছিলেন কল্যাণ রায়চৌধুরী। তিনি ১৬৫৩ সালে মহিষাদল এর শাসনভার গ্রহণ করেন। তার আগে মহিষাদলে কোন রাজার নাম জানা যায়নি। জনার্দন উপাধ্যায়, যিনি উত্তরপ্রদেশ থেকে ব্যবসা সূত্রে মহিষাদল এ এসেছিলেন । পরবর্তীকালে তিনি কল্যাণ রায় চৌধুরীর কাছ থেকে মহিষাদল এর সত্ত্ব কিনে নেন এবং নতুন রাজা হন। রাজবাড়ীটি দ্বিতল ভবন। পরিধিতে দুটি লম্বা স্তম্ভ রয়েছে এবং তিন দিক একটি বিশাল পরিখা দ্বারা বেষ্টিত।

বাইরে থেকে এটি দেখতে খুবই রাজকীয়। বাইরে রয়েছে একটি ছোট কামান। যা রাজারা আগে ব্যবহার করতেন। রাজবাড়ির সামনের দিকে পাঁচ মিনিট দূরে “সাহেবদিঘী” নামে একটি পুকুর আছে । যা একসময় রাজা এবং ব্রিটিশ অফিসারদের জন্য অবসর উদ্যান ছিল। তিনটি কক্ষ রয়েছে। এই তিনটি কক্ষের একটি প্রদর্শনী জাদুঘর। যেখানে রাজ পরিবারের ব্যবহৃত সমস্ত প্রাচীন জিনিসপত্র রাখা আছে। অস্ত্র কক্ষে প্রচুর ভিক্টোরিয়ান যুগের তরবারি, কুঠার এবং বর্ষা আছে। সেখানে গ্রামোফোন, অভিনব আয়না, উনবিংশ শতাব্দীর একটি পিয়ানোও রয়েছে। আকর্ষণীয় বিষয় হলো মহারাজাদের দ্বারা স্বীকার করা পশুর চামড়া প্রদর্শন করা আছে।

সেই সময় স্বীকার করা আইনত নিষিদ্ধ ছিলনা। তাই বহু হরিণ, ভালুক এমনকি বাঘেরও শিকার করত তারা। পুরো করিডোরটি হরিণ এবং হরিণের শিং দ্বারা সজ্জিত। জাদুঘর ভ্রমণের জন্য মাত্র১০ টাকা চার্জ। তবে হল এর ভেতর ছবি তোলার অনুমতি নেই। মহিষাদল রাজবাড়ি বলতে যা চিনি তা ফুলবাগ প্যালেস নামে পরিচিত। যার নির্মাণ করা হয় সতীপ্রসাদ গর্গের নিজস্ব পরিকল্পনায় ইংরেজ আমলে, তারই রাজত্বকালে। রাজা সতীপ্রসাদ গর্গ ইংরেজ সরকারের থেকে রাজা বাহাদুর খেতাব পান । রাজবাড়ির উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে তার মুর্তি আজও বর্তমান। ফুলবাগ প্যালেস নাম যথার্থ কারণ বাগানে ফুল ফুটে শোভা বর্ধন করে । মহিষাদল রাজবাড়ি নিজেই যেন একটি প্রস্ফুটিত ফুল। সয়ং সত্যজিৎ রায় এই বাড়ির প্রেমে পড়েছিলেন।

এই রাজবাড়ী থেকে গেঁওখালি নামক একটি গ্রামে যাওয়া যায়। এই স্থানটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। কারণ এটি সেই স্থান যেখানে উপাধ্যায় রাজ পরিবার (মহিষাদলের) ষোড়শ শতাব্দীতে উত্তর দিক থেকে প্রথম প্রবেশ করেছিল। এটি দক্ষিণ বাংলার তিনটি প্রধান নদী অর্থাৎ হুগলি, দামোদর ও রূপনারায়ণের সঙ্গমস্থলে অবস্থিত। গাদিয়াড়া এবং নূরপুর থেকেও এখানে আসা যায় । এখানকার নদীর মনোরম দৃশ্য সত্যিই মনমুগ্ধকর। নদীর মিলনস্থল জলাশয় টিকে এত প্রশস্ত করে তুলেছে যে আপনি অন্য তীরটি খুব স্পষ্ট দেখতে পাবেন না। রাস্তাটি নদীর তীরের সমান্তরালভাবে চলে গেছে এবং এখানে এক কিলোমিটার পথ চলার পথটি অতি সুন্দর ।

 

রাস্তার ঠিক পাশেই আছে একটি রিসোর্ট। যার নাম “গেঁওখালি রিসোর্ট”। এখানে কেউ সপ্তাহান্তে নির্মল ভাবে কাটাতেই পারেন। গেঁওখালি , গাদিয়াড়া এবং নূরপুরের মধ্যে অবস্থিত বিস্তৃত ফেরি এবং লঞ্চ পরিষেবা আছে। এই রাজবাড়ীর একটি প্রান্তে রয়েছে গোপালজিউ এবং রামজিউ মন্দির। যা রাজবাড়ীর বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পর্যটকদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ। মহিষাদল রাজবাড়ী ভ্রমণ একটি ঐতিহাসিক এবং সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা সরবরাহ করে। যা দর্শকদের মুগ্ধ করবেই।

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

আজকের খবর