নয়া জামানা : দীর্ঘ তৃণমূল আমলে রাজ্যে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের ছবি ছিল হতাশাজনক। বিরোধীরা বারবার অভিযোগ তুলেছিল, রাজ্যে ক্রমাগত বেড়েছে বেকারত্বের হার। তবে বর্তমানে রাজ্যের শাসনভার বিজেপির হাতে যাওয়ার পর থেকে বদলে যেতে শুরু করেছে বাংলার অর্থনৈতিক চিত্র। সরকার শুরু থেকেই রাজ্যের ভাবমূর্তি বদলাতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে চলেছে।
তবে সরকারের এই কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র জানার অধিকার রয়েছে আমজনতার। সেই লক্ষ্যেই বৃহস্পতিবার নবান্নে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে— শ্বেতপত্র প্রকাশের মাধ্যমে রাজ্য সরকারের কাজের সম্পূর্ণ খতিয়ান জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। এই শ্বেতপত্র প্রস্তুতকারী কমিটির চেয়ারম্যান পদে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্তকে।
উল্লেখযোগ্য বিষয়, বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের জবাবি ভাষণেই অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত এই শ্বেতপত্র প্রকাশের বিষয়টি জানিয়ে দিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে বিস্তারিত জানান মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি জানান, শ্বেতপত্র কমিটিতে চেয়ারম্যান ছাড়াও থাকবেন মোট পাঁচজন সদস্য।
এছাড়া রাজ্যে নতুন বিনিয়োগ টানতে গঠিত হয়েছে পৃথক একটি কমিটি, যার নেতৃত্বে থাকবেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়।
সাংবাদিক বৈঠকে অগ্নিমিত্রা পাল অভিযোগ করেন, আগের তৃণমূল সরকারের কাছে বারবার শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানানো হলেও তা কখনও প্রকাশ্যে আনা হয়নি। তাঁর কথায়, আমরা আগের সরকারকেও বারবার শ্বেতপত্র প্রকাশ করতে বলেছিলাম। বিজিবিএসে কত পরিমাণ বিনিয়োগ হল, কোন কোন সেক্টরে বিনিয়োগ হল, কোন সেক্টরে কত ছেলেমেয়ে চাকরি পেল— আমরা বারবার জানতে চেয়েছি। কিন্তু ওই সরকার তা প্রকাশ্যে আনেনি।
তিনি আরও জানান, বর্তমান সরকার স্বচ্ছতার নীতিতে বিশ্বাসী। তাঁর ভাষায়, আমরা কী করছি, কত বিনিয়োগ এল, আমরা কোথায় কোথায় কোন সেক্টরে বিনিয়োগ আনছি, কত ছেলে চাকরি পাচ্ছে— তা জানাতে চাই আমরা। তাই শ্বেতপত্র প্রকাশ করা হবে।
শ্বেতপত্র প্রকাশের পাশাপাশি তৃণমূল আমলের বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও তদন্ত চালাবে বর্তমান রাজ্য সরকার। কোন দপ্তরে কী ধরনের বেনিয়ম হয়েছে এবং তাতে কারা কারা যুক্ত ছিলেন— সবকিছুই খতিয়ে দেখা হবে বলে জানা গিয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষে প্রকাশিত হবে এই শ্বেতপত্র।
এদিনের মন্ত্রিসভার বৈঠকে শ্বেতপত্র ছাড়াও আলোচনা হয়েছে অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউনিফর্ম সিভিল কোড) নিয়ে। মন্ত্রীদের এই বিধি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবগত করানো হয় বৈঠকে। অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, আগামী চার সপ্তাহের মধ্যেই এই বিধির খসড়া তৈরি হয়ে যাবে।
জিআই মুকুটে বারুইপুর, তাইওয়ান গোলাপি পেয়ারায় বদলাচ্ছে কৃষকের ভাগ্য