উত্তম সিংহ, নয়া জামানা, উত্তরবঙ্গ:রাজ্যের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার বর্তমান পরিস্থিতি, বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামো, আর্থিক সংকট এবং শিক্ষার মানোন্নয়নের রূপরেখা নিয়ে বৃহস্পতিবার উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হল রাজ্যপাল তথা আচার্য আর.এন. রবির উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। বৈঠকে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ২০ জন উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। আচার্য প্রত্যেক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে তাদের প্রতিষ্ঠানের সমস্যা, আর্থিক অবস্থা, একাডেমিক অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার খোঁজ নেন।
তবে এদিনের বৈঠকের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে আয়োজক উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকা। উচ্চশিক্ষা নিয়ে এত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব প্রতিনিধি বা তাদের সমস্যা নিয়ে কোনও আলোচনা প্রকাশ্যে সামনে আসেনি। বিষয়টি ঘিরে শিক্ষামহলে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
বৈঠক শেষে রাজ্যপাল সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও উপস্থিত উপাচার্যরা জানান, আলোচনা ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ। শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের কর্মমুখী করে তোলা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে স্কিল-বেসড ডেভেলপমেন্ট কোর্স ও উদ্যোক্তা তৈরির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন আচার্য। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়গুলির পরিকাঠামোগত উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলির সমাধানে উচ্চশিক্ষা দফতরের সঙ্গে দ্রুত আলোচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।
মহাত্মা গান্ধি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৌরাংশু মুখোপাধ্যায় জানান, বৈঠকে মূলত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টি না উঠলেও জাতীয় শিক্ষানীতি বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে প্রত্যেকে আচার্যকে অবহিত করেন।
রায়গঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অর্ণব সেন বলেন, আচার্য প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও আর্থিক অবস্থা জানতে চান। পাশাপাশি দীর্ঘদিন বকেয়া থাকা সমাবর্তন অনুষ্ঠান দ্রুত আইনানুগভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মী সংকটের বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে।
আলিপুরদুয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শরিতকুমার চৌধুরী জানান, নবগঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলির সমস্যা, পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। তিনি বলেন, আচার্য আগামী দিনে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের আশ্বাস দিয়েছেন।
হিন্দি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নন্দিনী সাহু বৈঠককে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বলে উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে কর্মমুখী শিক্ষা, স্কিল ডেভেলপমেন্ট ও উদ্যোক্তা তৈরির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশিস ভট্টাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা দ্রুত পৌঁছে দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে। আচার্যও প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে সরেজমিনে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।