নয়া জামানা : কলকাতা হাই কোর্টের নতুন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পেলেন বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। শনিবার থেকেই তিনি হাই কোর্টে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। বর্তমান প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের কার্যকালের মেয়াদ শনিবার শেষ হওয়ার পরই তিনি এই পদে বসছেন।কেন্দ্রীয় আইন মন্ত্রক থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ভারতীয় সংবিধানের ২২৩ নম্বর ধারায় প্রাপ্ত ক্ষমতা প্রয়োগ করে রাষ্ট্রপতি বিচারপতি চক্রবর্তীকে এই পদে নিয়োগ করেছেন। হাই কোর্টের রীতি অনুযায়ী, প্রধান বিচারপতি অবসর নেওয়ার পর সাধারণত বয়োজ্যেষ্ঠ বিচারপতিকেই দায়িত্ব দেওয়া হয়, এবং এ ক্ষেত্রেও সেই নিয়মই অনুসরণ করা হয়েছে।প্রাথমিক স্কুলে শিক্ষক নিয়োগে দুর্নীতির অভিযোগে হাই কোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ একসময় ৩২ হাজার চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। বিচারপতি চক্রবর্তীর নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ খারিজ করে দেয় এবং মানবিক কারণ দেখিয়ে জানায়, কারও চাকরি যাবে না। এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা চলছে, যার শুনানি চলতি বছরের অগস্ট মাসে হতে পারে বলে জানা গেছে।ওবিসি শংসাপত্র মামলায় তাঁর রায়টিও যথেষ্ট আলোচিত হয়েছিল। তিনি ২০১০ সালের পর থেকে দেওয়া সমস্ত ওবিসি শংসাপত্র বাতিল করেছিলেন, এই পর্যবেক্ষণে যে তৃণমূল সরকারের আমলে ১১৩টি সম্প্রদায়কে অনগ্রসর শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করার প্রক্রিয়া যথাযথ ছিল না। তিনি সামাজিক, আর্থিক ও পেশাগত সমীক্ষার ভিত্তিতে নতুন তালিকা তৈরির নির্দেশ দেন। এই মামলাও এখন সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন।এ ছাড়া, গত বছর বাংলাদেশি সন্দেহে দিল্লি থেকে গ্রেফতার হওয়া সুনালি বিবি-সহ ছ’জনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তাঁর বেঞ্চ চার সপ্তাহের মধ্যে তাঁদের দেশে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যার ফলে অন্তঃসত্ত্বা সুনালিকে ফেরানো সম্ভব হয়।১৯৬৬ সালে জন্ম বিচারপতি চক্রবর্তীর। ১৯৯১ সালে আইনজীবী হিসেবে নাম নথিভুক্ত করার পর তিনি ২২ বছর কলকাতা হাই কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করেছেন। ২০১৩ সালে বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন এবং ২০১৬ সালে হাই কোর্টের স্থায়ী বিচারপতি পদে নিয়োগ পান। এ বার প্রধান বিচারপতির আসনে বসছেন তিনি।
আরও পড়ুন: