নয়া জামানা ডেস্ক : মঙ্গলবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে চলেছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তবে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ঠিক পূর্বমুহূর্তে প্রবল রাজনৈতিক টানাপোড়েন শুরু হয়েছে। একদিকে বিএনপি সাংসদরা ইতিমধ্যেই শপথ নিয়েছেন, অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর মতো শরিক দলগুলো সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে বিএনপি-কে রীতিমতো হুমকি দিয়েছে। গণভোটের রায় মেনে সংবিধান পরিবর্তনের শপথ না নিলে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান বয়কট ও রাজপথে প্রতিবাদের ডাক দিয়েছে তারা।এই সংঘাতের মূলে রয়েছে জুলাই সনদ। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের আয়োজন করেছিলেন। এই সনদের লক্ষ্য হল ১৮০ দিনের জন্য সংসদকে একটি গণপরিষদে রূপান্তরিত করা, যা বাংলাদেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামো পরিবর্তনের ক্ষমতা দেবে। বিএনপি অনিচ্ছা সত্ত্বেও এই সনদে স্বাক্ষর করলেও, এখন তারা অভিযোগ করছে যে সনদ তৈরির সময় তাদের সাথে কোনো পরামর্শ করা হয়নি। তারেক রহমানের উপস্থিতিতে প্রবীণ নেতা সালাউদ্দিন আহমেদ স্পষ্ট জানিয়েছেন, বিএনপি সাংসদরা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন না।জামায়াত এবং এনসিপি প্রথম থেকেই সংবিধান সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছে। জামায়াতের সাফ কথা, বিএনপি-কে গণভোটের ফলাফল মেনে সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার করতে হবে। তা না হলে তারা কেবল শপথ বয়কটই করবে না, বরং দেশব্যাপী প্রতিবাদ মিছিল শুরু করবে। সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শপথের দিনেই বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।এদিকে মঙ্গলবারই ১৮ মাসের শাসনকাল শেষে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় ২৫ মিনিটের এই ভাষণে তিনি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য এবং সেভেন সিস্টার্স প্রসঙ্গ টেনে আনেন। তাঁর দাবি, এই অঞ্চলের মাধ্যমে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হতে পারে। তবে তাঁর শাসনকালে এই ইস্যুটি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক উত্তেজনা বজায় ছিল, যা বিদায়ী ভাষণেও প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও পড়ুন-
১৮১ আসনে এগিয়ে বিএনপি , বাংলাদেশের ভাবী প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা মোদীর