নয়া জামানা,আলিপুরদুয়ার:জঙ্গলের রাজ্যে আজ যেন এক অন্যরকম সকাল।পুজোর আসনে বিশাল হাতি,পায়ে ফুলের মালা আর তারপর নদীর জলে নেমে সেই হাতির গায়ে স্নেহের পরশ বনমন্ত্রীর। বিশ্ব হাতি দিবসে জলদাপাড়ায় ধরা দিল মানুষ ও বন্যপ্রাণের ভালোবাসার এক মায়াময় ছবি।বিশ্ব হাতি দিবস উপলক্ষে জলদাপাড়া ওয়াইল্ডলাইফ ডিভিশনের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় বিশেষ কর্মসূচি। সাজিয়ে তোলা হয় কুনকি হাতিদের।ফুল, পুজোর সামগ্রী আর উৎসবের আবহে অনুষ্ঠিত হয় প্রতীকী হাতি পুজো।তবে এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় রীতি বা আনুষ্ঠানিকতায় আটকে থাকেনি। এর মধ্য দিয়ে উঠে এসেছে বন্যপ্রাণ সংরক্ষণ এবং সহাবস্থানের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা।

অনুষ্ঠানের সবচেয়ে আকর্ষণীয় মুহূর্ত তৈরি হয় হলং নদীর জলে।নদীতে নেমে কুনকি হাতিদের নিজের হাতে স্নান করান রাজ্যের বন ও পরিবেশ মন্ত্রী মনোজ কুমার ওরাঁও। কখনও জলের ছোঁয়া, কখনও হাতির গায়ে স্নেহের পরশ মুহূর্তেই বদলে যায় পরিবেশ। মানুষ আর বন্যপ্রাণের দূরত্ব যেন মুছে গিয়ে তৈরি হয় এক আবেগঘন দৃশ্য।হাতি শুধু জঙ্গলের বিশাল প্রাণী নয়, বনাঞ্চলের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষাতেও তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ বনভূমি সংকোচন ও মানুষ-হাতি সংঘাত তাদের অস্তিত্বের সামনে তৈরি করছে নানা চ্যালেঞ্জ।তাই বিশ্ব হাতি দিবসে জলদাপাড়ার এই আয়োজনের বার্তা একটাই-হাতিকে ভালোবাসুন, জঙ্গলকে ভালোবাসুন, বন্যপ্রাণকে বাঁচান।
সংঘাত নয়, চাই সহাবস্থান। মানুষের সচেতনতা ও দায়িত্বশীল আচরণই পারে হাতির নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে।জলদাপাড়ার নদীর জলে তাই আজ শুধু হাতির স্নান নয়,ভেসে উঠল প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের ভালোবাসার এক শান্ত, সুন্দর ছবি।
গঙ্গাজলঘাটিতে দুই বুনো হাতির দাপট, আতঙ্কে ঘরবন্দি বহু পরিবার