নয়া জামানা : রাজ্য বিধানসভায় ধ্বনিভোটে পাশ হয়েছে গুন্ডাদমন বিল এবং আগামী সোমবার থেকে গোটা রাজ্যে তা লাগু হতে চলেছে। শুক্রবার বহরমপুরে দাঁড়িয়ে একথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, এই আইন কার্যকর হওয়ার ফলে আর কখনও সামশেরগঞ্জ কিংবা ধুলিয়ানের মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটবে না।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালে সিএএ পাশের পর বাংলায় অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মালদহ, মুর্শিদাবাদ, উত্তর ২৪ পরগনা এবং হাওড়ায় সে সময় ব্যাপক অশান্তির পরিবেশ তৈরি হয়। প্রতিবাদের নামে বিভিন্ন জায়গায় ট্রেন, বাস এবং সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছিল। রাজ্যে পালাবদলের পর সেই সরকারি সম্পত্তি নষ্টের অভিযোগে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু হয়েছে। এই প্রসঙ্গ টেনেই শুক্রবার বহরমপুরে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, রেল-বাস জ্বালানো কিংবা পুলিশকে মারধরের মতো ঘটনা এখন অতীত। নারী সুরক্ষা ও পাচার রোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি। সংশ্লিষ্ট মামলাগুলির বিচারও দ্রুত হবে বলে আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর স্পষ্ট বার্তা, সামশেরগঞ্জ বা ধুলিয়ানে যা ঘটেছিল, তা আর ঘটতে দেওয়া হবে না এবং তেমন কিছু হলে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিয়ম মেনে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়ে গিয়েছে বলেও জানান তিনি, এবং আগামী সোমবার থেকেই গোটা রাজ্যে এই গুন্ডাদমন আইন কার্যকর হবে বলে নিশ্চিত করেন।
উল্লেখ্য, গত ২৯ জুন রাজ্য বিধানসভায় পাশ হয় পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অফ অ্যান্টি-সোশাল অ্যাক্টিভিটিজ বিল, ২০২৬, যা সংক্ষেপে গুন্ডাদমন বিল নামে পরিচিত। বিলের খসড়া অনুযায়ী, প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণের দ্বিগুণ পর্যন্ত দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ বা জরিমানা চাপানোর ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিশনকে। সরকারের বক্তব্য, বর্তমান আইন এই রাজ্যে আইনের শাসন কায়েম রাখার জন্য যথেষ্ট নয়, তাই পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাকে বাড়তি ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে নতুন বিলে। তৃণমূল আমলে তোলাবাজি, সিন্ডিকেট-রাজ ও গুন্ডামি চরম আকার নিয়েছিল বলে দাবি করে সরকার একে রুখতে এই আইনকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করেছে।
বিলে সমাজবিরোধী কাজের সংজ্ঞা বেশ বিস্তৃত করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি করে বা নিরাপত্তাহীনতার জন্ম দেয়, এমন যে কোনও কাজকেই এই সংজ্ঞার আওতায় আনা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে জনশৃঙ্খলা নষ্ট করা, জীবন বা সম্পত্তির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করা, বৈধ ব্যবসা-বাণিজ্য বা পেশায় বাধা দেওয়া, বেআইনিভাবে কারও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দখল, সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন, খনি-বালি-পাথর বা অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের বেআইনি উত্তোলন এবং বন্যপ্রাণী বা বনজ সম্পদের ক্ষতি। অর্থাৎ, শুধু রাজনৈতিক হিংসাই নয়, তোলাবাজি, জমি দখল, সিন্ডিকেট-কারবার, বেআইনি খনি বা বালি ব্যবসা, সম্পত্তি ভাঙচুর এবং ব্যবসায় বাধাদান— সবকিছুকেই এই আইনের আওতায় আনার সংস্থান রাখা হয়েছে।
তৃণমূল স্তরে বিদ্রোহ রুখতে নতুন আইন , বিধানসভায় পাশ পঞ্চায়েত সংশোধনী বিল