নয়া জামানা, কলকাতা: দুর্গাপুজোর আর মাত্র বাকি কয়েকটা দিন। উৎসবের মরশুমের মুখেই ফের হকার উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল কলকাতার একাধিক এলাকা। বুধবার বালিগঞ্জের সৈয়দ আলি আমির অ্যাভিনিউ সংলগ্ন এলাকায় আকস্মিকভাবে বুলডোজার এসে পৌঁছলে হকারদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও উত্তেজনা ছড়ায়। হকারদের অভিযোগ, কোনও রকম আগাম নোটিস বা সতর্কবার্তা না দিয়েই তাঁদের রুটিরুজির ওপর বুলডোজার চালানো হয়েছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা, অনেকেই নিজেদের একমাত্র সম্বল হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
ঘটনার খবর পেয়েই পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এলাকায় পৌঁছন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা। সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন যে দুর্গাপুজো পর্যন্ত রাজ্যে কোনও হকার উচ্ছেদ করা হবে না। সেই সরকারি আশ্বাসের পরেও কীভাবে এবং কার নির্দেশে এই উচ্ছেদ অভিযান চালানো হল, তা নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। তাঁদের দাবি, হকারদের বিকল্প কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে এভাবে জোরপূর্বক উচ্ছেদ করে তাঁদের জীবিকা কেড়ে নেওয়া অত্যন্ত অমানবিক।
বালিগঞ্জের ওই এলাকায় প্রায় ৫০টি ছোট দোকান রয়েছে, যার মধ্যে কয়েকটি ইতিমধ্যেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে স্থানীয় বাসিন্দা ও হকারদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে পড়ে শেষ পর্যন্ত বাকি দোকান ভাঙার কাজ বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় প্রশাসন। হকারদের পক্ষ থেকে উচ্ছেদের লিখিত নোটিস দেখতে চাওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পুলিশ কোনও স্পষ্ট জবাব দিতে পারেনি।
একই দিনে ঢাকুরিয়া রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মেও সমান্তরালভাবে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হকারদের দাবি, রাতের অন্ধকারে বা ভোরের আলো ফোটার আগে কোনও নোটিস ছাড়াই তাঁদের দোকানগুলি ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। সকালে এসে তাঁরা নিজেদের দোকান ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে দেখেন। দীর্ঘ বছর ধরে যাঁরা এখানে ব্যবসা করে সংসার চালাচ্ছেন, আচমকা এই ঘটনায় তাঁদের ভবিষ্যৎ সম্পূর্ণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে আইনি নোটিস, পুনর্বাসন নীতি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের বাঁচার অধিকারের বিষয়টি নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। পরিস্থিতির সুরাহা না হলে আগামীদিনে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আন্দোলনকারী হকারদের একাংশ।