আমিনুর রহমান, নয়া জামানা, বর্ধমান: পূর্ব বর্ধমান জেলার দেওয়ানদিঘি থানার পালিতপুর ক্যানেলপাড় এলাকায় এক আদিবাসী গৃহবধূর নৃশংস খুনের ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মঙ্গলবার মাঠ থেকে ২৮ বছর বয়সি রানী হেমরমের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের অভিযোগ, স্বামীকে খুঁজতে বাড়ি থেকে বের হওয়া ওই গৃহবধূকে গণধর্ষণ ও নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে। এই ঘটনার খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার দুপুরে নিহতের বাড়িতে যান রাজ্যের মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু। তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিজেপির জেলা সভাপতি অভিজিৎ তা সহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং সবরকম সহায়তার আশ্বাস দেন।
এদিকে ঘটনার তীব্রতায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়তেই তৎপর হয় প্রশাসন। পরিবারের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত তদন্তে নেমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম সেখ আজিজুল ও সেখ ভদাই। পুলিশ জানায়, আজিজুলকে স্থানীয় দেওয়ানদিঘি এলাকা থেকে এবং ভদাইকে বীরভূমের নানুর থেকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের বিরুদ্ধে গণধর্ষণ, খুন এবং তথ্যপ্রমাণ লোপাট-সহ একাধিক গুরুতর ধারায় মামলা রুজু করে বর্ধমান জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। ঘটনার পেছনে অন্য কারও হাত আছে কি না, তা জানতে ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
তদন্তে বৈজ্ঞানিক তথ্য ও অকাট্য প্রমাণ সংগ্রহ করতে ইতিমধ্যেই ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে পাঁচ সদস্যের একটি ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ দল। তারা সেখান থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তদন্ত এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। ফরেন্সিক ও ময়নাতদন্তের রিপোর্টের ভিত্তিতে ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সুনিশ্চিত করা হবে।
বিজেপি করায় গৃহবধূকে পিটিয়ে খুন করল স্বামী! রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে