গোপাল শীল,নয়া জামানা,দক্ষিণ ২৪ পরগনা: আকাশজুড়ে কালো মেঘ, উত্তাল নদী আর প্রতিকূল আবহাওয়া—সব বাধা উপেক্ষা করেই সুন্দরবনের শেষ প্রান্ত গোবর্ধনপুরে পৌঁছালেন রাজ্যের মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা। এলাকাবাসীর কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে শনিবার সকালেই তিনি লঞ্চে করে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন পাথরপ্রতিমার বিডিও, সেচ দপ্তরের বিভিন্ন আধিকারিক, সুন্দরবন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি আধিকারিক এবং সুন্দরবন উন্নয়ন দপ্তরের প্রতিনিধিরা।
গোবর্ধনপুর দীর্ঘদিন ধরেই নদী ও সমুদ্রভাঙনের শিকার। প্রতি বছরই ভাঙনের জেরে বহু বাড়িঘর, চাষের জমি ও জীবিকা নদীগর্ভে তলিয়ে যায়। শত শত পরিবার ঘরছাড়া হয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর নদী বাঁধ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি মিললেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। অতীতে একাধিকবার বাঁধ নির্মাণ করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই তা ভেঙে নদীর জলে বিলীন হয়ে যায়। ফলে উপকূলবাসীর দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এদিন মন্ত্রী দীপঙ্কর জানা এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে তাঁদের সমস্যা ও দাবি মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি জানান, গোবর্ধনপুরকে স্থায়ীভাবে নদীভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করতে আধুনিক প্রযুক্তিতে নতুন নদী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে সেই কাজ দ্রুত শুরু করতে জমি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধানে স্থানীয় মানুষকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান নদী বাঁধের ঠিক ওপর নয়, কিছুটা দূরে নিরাপদ স্থানে অত্যাধুনিক ও দীর্ঘস্থায়ী নদী বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যতে নদীভাঙনের ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের প্রসঙ্গ তুলে দীপঙ্কর জানা বলেন, জনস্বার্থের কাজে কোনও ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাস্ত করা হবে না। গুণগত মান বজায় রেখেই নদী বাঁধ নির্মাণ করা হবে, যাতে দীর্ঘদিন ধরে উপকূলবাসী নিরাপদে বসবাস করতে পারেন।
মন্ত্রীর এই সফর এবং আশ্বাসে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন গোবর্ধনপুরের মানুষ। তাঁদের বিশ্বাস, বহু বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আধুনিক নদী বাঁধ নির্মিত হলে নদীভাঙনের আতঙ্ক অনেকটাই কমবে এবং সুন্দরবনের এই উপকূলবর্তী এলাকার মানুষ নিরাপদ ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যেতে পারবেন।