বাবলু রহমান, নয়া জামানা, জলপাইগুড়ি : যে মেয়ে নিজের লড়াই আর পরিশ্রম দিয়ে ভারতবর্ষকে সোনার পদক এনে দিয়েছিল, আজ সেই সোনার মেয়েকেই ধর্ষণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ঘিরে তীব্র আলোড়ন তৈরি হয়েছে জেলা জুড়ে। রাজগঞ্জ বিধানসভার তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী তথা সোনা জয়ী অ্যাথলিট স্বপ্না বর্মনের বিস্ফোরক অভিযোগ এখন রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। শুক্রবার রাতের দিকে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট করে বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ সামনে আনেন স্বপ্না। পরে একটি ভিডিও বার্তায় কান্নাজড়িত গলায় তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। শুধু প্রাণনাশের হুমকি নয়, তাঁকে গণধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। স্বপ্নার কথায়, তাঁকে বলা হয়েছিল, তুই দাঁড়া, সময়ের অপেক্ষা কর, তোকে গ্যাংরেপ করব। এই অভিযোগ সামনে আসতেই তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মহলে। একজন আন্তর্জাতিক স্তরের মহিলা ক্রীড়াবিদ, যিনি দেশের হয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, তাঁকেই এভাবে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে অনেকেই স্তম্ভিত। স্বপ্না জানান, ভোটের পর থেকেই তাঁর পরিবারকে টার্গেট করা হচ্ছিল। তাঁর দুই দাদাকেও নাকি বারবার মারার হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমন পরিস্থিতিতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন। এরই মধ্যে শুক্রবার আচমকা খবর আসে তাঁদের বাড়িতে আগুন লেগেছে। বাড়িতে পৌঁছে তাঁরা দেখেন একাংশ দাউ দাউ করে জ্বলছে। পরে পরিবারের সদস্য ও দমকলের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
জলপাইগুড়ির এক সাধারণ গরিব পরিবার থেকে উঠে আসা স্বপ্না বর্মনের জীবনটা বরাবরই সংগ্রামের। বাবার রিকশা চালিয়ে সংসার চলত। পায়ে অতিরিক্ত আঙুল নিয়ে ছোটবেলা থেকেই নানা সমস্যার মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। কিন্তু সমস্ত বাধা পেরিয়ে ২০১৮ সালের ২০১৮ এশিয়ান গেমস -এ হেপ্টাথলনে সোনা জিতে ইতিহাস গড়েন স্বপ্না। দেশের প্রথম মহিলা হেপ্টাথলিট হিসেবে এশিয়ান গেমসে সোনা এনে তিনি কোটি কোটি ভারতীয়র গর্ব হয়ে ওঠেন। আজ সেই সোনার মেয়েকে ধর্ষণের হুমকি, আগুন লাগানো এবং প্রাণনাশের আশঙ্কার অভিযোগ সামনে আসায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজনৈতিক মহল থেকে ক্রীড়া দুনিয়া সব জায়গাতেই উঠছে প্রশ্ন, একজন মহিলা ক্রীড়াবিদ ও জনপ্রতিনিধিকে যদি এভাবে ভয় দেখানোর অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? যদিও কারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত, তা নিয়ে এখনও সরাসরি কারও নাম করেননি স্বপ্না। তিনি জানিয়েছেন, নিজের চোখে কাউকে আগুন লাগাতে দেখেননি। তবে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখন সকলের নজর প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই।