নয়া জামানা ডেস্ক : ভোটের ময়দানে ‘খাম’ আর ‘পদ্ম’ কি তবে একই মুদ্রার দুই পিঠ? ভাঙড়ের মাটি থেকে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ) এবং বিজেপি-র ‘গোপন আঁতাঁত’ নিয়ে এমনই বিস্ফোরক প্রশ্ন তুললেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সরাসরি আক্রমণ শানিয়ে তিনি জানতে চান, ‘খামে ভরে টাকা পেয়েছেন বলেই কি নন্দীগ্রামে প্রার্থী দিলেন নওশাদ?’ নাম না করে আইএসএফ প্রার্থীকে বিঁধে অভিষেক স্পষ্ট জানান, সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করে আদতে বিজেপি-কেই সুবিধা করে দিতে চাইছে বাম-আইএসএফ জোট। শনিবার ভাঙড়ের সভা থেকে আগাগোড়া আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’। তাঁর নিশানায় ছিল নওশাদ সিদ্দিকির কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা। অমিত শাহের মন্ত্রকের দেওয়া সিআরপিএফ সুরক্ষা নিয়ে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, ‘অমিত শাহকে নিরাপত্তা দেয় সিআরপিএফ। আর সেই সিআরপিএফ-ই নওশাদের নিরাপত্তার দায়িত্বে। কী এমন চুক্তি হয়েছে?’ মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তার প্রসঙ্গ টেনে তিনি মনে করিয়ে দেন, তিন বারের মুখ্যমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্য পুলিশের সুরক্ষায় ভরসা রাখেন। সেখানে নওশাদ কেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে থাকবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সংখ্যালঘু আবেগকে উসকে দিয়ে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘মানবিকতা থাকলে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা ছেড়ে দিন। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার সুরক্ষা দেবে।’ তৃণমূল নেতার দাবি, নন্দীগ্রামে সিপিএম এবং আইএসএফ— জোটের দুই শরিকই আলাদা প্রার্থী দিয়ে আসলে পদ্ম শিবিরকে অক্সিজেন দিচ্ছে। এই কৌশলী ভোট কাটাকাটির রাজনীতিকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘কাকে শক্তিশালী করতে চায় তারা?’ অভিষেক সাফ জানান, ভাঙড়ে বিজেপির ‘বি-টিম’-এর কোনও জায়গা নেই। ধ্বংসের রাজনীতি থেকে সাধারণ মানুষকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এমনকি তাঁর বক্তব্য নিয়ে সংশয় থাকলে আইনি পদক্ষেপ করার চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন বিরোধীদের দিকে। ভাঙড়ের পর বসিরহাটের সভাতেও মেজাজি মেজাজে দেখা যায় অভিষেককে। দ্বিতীয় দফার ভোট মিটতেই জয়ের বিষয়ে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত তৃণমূল নেতা। তাঁর দাবি, প্রথম দফাতেই তৃণমূল ১০০ আসন পেয়ে গিয়েছে। দ্বিতীয় দফাতেও আরও ১০০ আসন আসবে। বসিরহাটের শূন্য সাংসদ পদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমিই আপনাদের সাংসদ।’ হাজী নুরুল ইসলামের মৃত্যু এবং রেখা পাত্রের মামলার জেরে ঝুলে থাকা উপনির্বাচন নিয়েও এদিন সুর চড়ান তিনি। কেন্দ্রীয় বঞ্চনার পাশাপাশি স্থানীয় উন্নয়ন ও প্রশাসনিক দায়বদ্ধতার কথা উঠে আসে তাঁর ভাষণে। সব মিলিয়ে শনিবাসরীয় প্রচারে বিরোধীদের কড়া বার্তা দিয়ে জয়ের হ্যাটট্রিকের ডাক দিলেন অভিষেক। ফাইল ফটো।
নন্দীগ্রামে বুথ এজেন্ট নিয়ে তুমুল বিতর্ক, মুখোমুখি তৃণমূল-বিজেপি