নয়া জামানা, কলকাতা : বাইক নিয়ে কমিশনের বিধিনিষেধে চরম ক্ষুব্ধ কলকাতা হাই কোর্ট। ‘ক্ষমতা আছে বলে যা খুশি করা যায় না, নাগরিকদের হেনস্থা করা হচ্ছে’— বৃহস্পতিবার নির্বাচন কমিশনের উদ্দেশে এই কড়া মন্তব্য করলেন বিচারপতি কৃষ্ণা রাও। সাধারণ মানুষের অধিকার হরণ এবং কর্তৃপক্ষের ব্যর্থতা নিয়ে সওয়াল করে রীতিমতো তুলোধোনা করল আদালত। ভোটের দু’দিন আগে কেন এই বিধিনিষেধ, তা নিয়ে শুক্রবার কমিশনকে হলফনামা জমার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের যুক্তি ছিল, অশান্তি রুখতে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকে বাইক মিছিলে নিষেধাজ্ঞা এবং বাইকের পিছনে আরোহী বসানোর ক্ষেত্রে রাশ টানা হয়েছে। কিন্তু এই যুক্তি ধোপে টেকেনি আদালতের কাছে। বিচারপতি রাও সাফ জানান, ‘এই ভাবে সাধারণ নাগরিকের অধিকার হরণ করা যায় না। তা হলে গাড়িও বন্ধ করে দিন। তাতেও তো লোকজন বোমা-বন্দুক নিয়ে গিয়ে গোলমাল পাকাতে পারে!’ গত পাঁচ বছরে বাইকবাহিনীর গোলমালের ক’টি নজির রয়েছে, তা নিয়েও তথ্য তলব করেছে হাই কোর্ট। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই সব কিছু স্তব্ধ করে দেওয়ার এই পদক্ষেপ।
কমিশনের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, ভোটের দু’দিন আগে সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাইকের পিছনে কেউ বসতে পারবেন না। ভোটের দিনও জরুরি কাজ বা ভোট দেওয়া ছাড়া বাইক ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা ছিল। তবে চিকিৎসা, স্কুল বা পারিবারিক অনুষ্ঠানে যাওয়ার ক্ষেত্রে ছাড়ের কথা বলা হলেও অন্য প্রয়োজনে পুলিশের লিখিত অনুমতির খাঁড়া ঝুলিয়েছিল কমিশন। যদিও অ্যাপভিত্তিক বাইক পরিষেবা এই নিয়মের বাইরে রাখা হয়েছিল।
কমিশনের এই তুঘলকি নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন মামলাকারীরা। বৃহস্পতিবার শুনানিতে বিচারপতি রাও স্পষ্ট করে দেন যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনজীবন ব্যাহত করা সমর্থনযোগ্য নয়। কমিশনের পক্ষ থেকে অবশ্য জানানো হয়েছে, কেন এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং অতীতে বাইক নিয়ে কী ধরনের অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা হলফনামা দিয়ে আদালতকে জানানো হবে। আপাতত শুক্রবারের শুনানির দিকেই তাকিয়ে সব পক্ষ। তবে আদালতের এই কড়া মনোভাবে কমিশনের ওপর চাপ বাড়ল বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
পুলিশের নাগালে বাইক চুরির দল! গ্রেপ্তারসহ উদ্ধার পাঁচটি মোটরবাইক