নয়া জামানা ডেস্ক : ভবানীপুরে পদ্ম ফোটানোই এখন পাখির চোখ অধিকারীদের। ছেলে শুভেন্দু অধিকারী জিতলে খোদ তিলোত্তমায় পাকাপাকি ডেরা গাড়তে চলেছেন অশীতিপর শিশির অধিকারী। স্রেফ থাকা নয়, ভোট মিটলেই ওই কেন্দ্রে বাড়ি কিনে বিধায়ক কার্যালয় খুলে জনগণের পরিষেবা দিতে চান প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। কার্যত শেষ বেলায় দক্ষিণ কলকাতার এই হাই-ভোল্টেজ কেন্দ্রে অল-আউট ঝাঁপানোর বার্তা দিলেন কাঁথির শান্তিকুঞ্জের মেজো কর্তা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ভবানীপুরে কঠিন লড়াইয়ে নেমেছেন শুভেন্দু। সেই লড়াইয়ে ছেলের পাশে দাঁড়াতে কোমর বাঁধছেন ৮৮ বছরের শিশির। তাঁর স্পষ্ট ঘোষণা, ‘ভবানীপুরের মানুষ শুভেন্দুকে জয়ী করলে তিনি নিজে ওই বিধানসভা কেন্দ্র এলাকায় বাড়ি কিনে সেখানে বিধায়ক কার্যালয় গড়ে তুলবেন।’ তিনি আরও জানান, ‘কলকাতা এবং সংলগ্ন এলাকায় আমার কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। তবে ভবানীপুরের মানুষ শুভেন্দুকে আশীর্বাদ করলে আমি নিজে সেখানে থেকে মানুষের পরিষেবার জন্য কাজ করব।’ বর্তমানে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬টি আসনের পাটিগণিত মেলাতে ব্যস্ত প্রবীণ এই রাজনীতিক। আগামী ২৩ এপ্রিল জেলার ভোট মিটলেই চব্বিশের সকালে তিনি পা রাখবেন ভবানীপুরে। লক্ষ্য একটাই—ছেলের জয় নিশ্চিত করা। অধিকারী পরিবারের দীর্ঘ জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতাকে ভবানীপুরের অলিগলিতে পৌঁছে দিতে চান তিনি। শিশিরের কথায়, ‘আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের পাশে থেকেছে। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ভবানীপুরের বাসিন্দাদের পরিষেবা দেওয়ার ক্ষেত্রে আমি নিজে এবং আমার পুত্র একযোগে কাজ করতে চাইব।’ উল্লেখ্য, এবার মেদিনীপুরের এগরা কেন্দ্রে পদ্ম প্রতীকে লড়ছেন শিশিরের ছোট ছেলে দিব্যেন্দুও। বয়সকে সংখ্যা বানিয়ে প্রতিদিন প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ চষে ফেলছেন প্রবীণ এই নেতা। তবে নন্দীগ্রাম বা এগরার চেয়েও সম্ভবত ভবানীপুরের মর্যাদার লড়াই ঘিরেই তাঁর বিশেষ পরিকল্পনা দানা বাঁধছে। ভবানীপুরের ঘরের ছেলে হয়েই কি শেষমেশ জনসেবার ইনিংস জারি রাখবেন তিনি? রাজনৈতিক মহলের নজর এখন সেদিকেই। ফাইল ফটো।